গ্লানি-অপমানের দিন শেষ, ‘চ্যাম্পিয়ন’ তকমা আরসিবির! ফাইনালে ৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে কী বললেন কোহলি?

১৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা। সমর্থকদের সহ্য করতে হয়েছে বছরের পর বছর বিদ্রূপ আর ‘৪৯ অল আউটের’ মতো তকমা। সেই সব গ্লানি মুছে ফেলে গত দুই বছরে ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তি হয়ে উঠল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পর মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়ল আরসিবি। অধিনায়ক রজত পাতিদারের নেতৃত্বে ২০২৫ ও ২০২৬—পরপর দুই মরশুমে ট্রফি এল বেঙ্গালুরুর ঘরে।
ম্যাচ শেষে বিরাটের উপলব্ধি:
ফাইনাল জয়ের পর সম্প্রচারকারী সংস্থার মুখোমুখি হয়ে আবেগে ভাসলেন কিং কোহলি। ৩৮ বছর বয়সেও ১৮ বছরের তরুণের মতো পারফরম্যান্সের খিদে নিয়ে যিনি মাঠে নামেন, সেই বিরাট কোহলি গত কাল ৪২ বলে ৭৫ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন। নিজের স্বপ্নের মুহূর্ত নিয়ে বিরাট বলেন, “আমার স্বপ্ন ছিল আমার ব্যাটের ছোঁয়ায় দল চ্যাম্পিয়ন হবে। সেই মুহূর্তটি অবশেষে এসেছে। আমাদের দলে এমন সব ক্রিকেটার রয়েছে, যারা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেই জয়ের আত্মবিশ্বাস জোগায়।”
জয়ের রণকৌশল:
নিজের দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি এবং পাওয়ার প্লে-তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রসঙ্গে কোহলি জানিয়েছেন, তাঁর লক্ষ্য ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া। তিনি বলেন, “প্রতিপক্ষ কে, তা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাইনি। আমরা সবাইকে সম্মান করি, তবে কাউকে যেচে অপমান করতে চাই না। আমি জানতাম ওরা আমাকে আউট করার মরিয়া চেষ্টা করবে। কিন্তু আমাদের দলে এমন চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড় রয়েছে যারা ৩-৪ ওভার আগেই ম্যাচ ফিনিশ করার ক্ষমতা রাখে। পাওয়ার প্লে-তেই আমরা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছি।”
এখনও কেন প্রাসঙ্গিক ‘কিং’?
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ফরম্যাট কমিয়ে দিলেও, বিরাটের ব্যাট এখনও আইপিএলের অন্যতম সেরা অস্ত্র। গতকালের ৭৫ রানের ইনিংসটি আবারও প্রমাণ করল, কেন তাঁকে বলা হয় ‘চেজমাস্টার’। ট্রফি জয়ের সঙ্গে সঙ্গে আরসিবি সমর্থকদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হলো। ১৮ বছরের দীর্ঘ হাহাকার শেষে এখন বেঙ্গালুরুতে চলছে উৎসবের মেজাজ।
চেন্নাই (২০১০-১১) এবং মুম্বইয়ের (২০১৯-২০) মতো টানা দুই বার ট্রফি জিতে আরসিবি এখন আইপিএলের অপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের তালিকায় পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নিল। আর এই সাফল্যের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা বিরাট কোহলি প্রমাণ করে দিলেন, বয়স তাঁর কাছে স্রেফ একটি সংখ্যা মাত্র।