প্রেগন্যান্সিতে ‘দেবী’, প্রসবের পরই জাজমেন্ট! মা হওয়ার যন্ত্রণা নিয়ে মুখ খুললেন কিয়ারা

রুপোলি পর্দার গ্ল্যামার ও আলোকবৃত্তের বাইরে কিয়ারা আডবাণী এখন একজন দায়িত্বশীল মা। গত বছরের ১৫ জুলাই সিদ্ধার্থ মালহোত্রা এবং কিয়ারার জীবনে এসেছে তাঁদের প্রথম সন্তান ‘সারায়া’। কিন্তু সন্তান জন্মের পর সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন মায়েদের প্রতি প্রত্যাশা নিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী।
সমাজের দ্বিচারিতা নিয়ে কিয়ারার তোপ:
মাতৃত্বের সফর যে সবসময় মধুর হয় না, তা স্পষ্ট করেছেন কিয়ারা। তাঁর মতে, গর্ভাবস্থায় একজন নারীকে সমাজ ‘দেবী’র আসনে বসিয়ে প্রশংসায় ভরিয়ে দেয়। কিন্তু সন্তানের জন্মের পরেই চিত্রটা বদলে যায়। কিয়ারার আক্ষেপ, “গর্ভাবস্থায় সবাই আপনার সৌন্দর্যের প্রশংসা করে, কিন্তু সন্তানের জন্মের পর থেকেই শুরু হয় জাজমেন্ট। তখন সবার প্রত্যাশা থাকে, আপনি রাতারাতি পুরনো ফিগারে ফিরে আসবেন। শরীরের গড়ন বা ওজন নিয়ে নানা কুমন্তব্য ধেয়ে আসে।”
‘মা-কে বড় করতেও গ্রামের প্রয়োজন’:
সন্তান বড় করার জন্য ‘একটা গোটা গ্রাম’ প্রয়োজন—এই প্রবাদটি মনে করিয়ে দিয়ে কিয়ারা বলেন, “আমি মনে করি, একজন নারীকে মা হিসেবে বড় করতেও একটা গোটা গ্রামের সমর্থন প্রয়োজন। মা, স্ত্রী এবং পেশাদার—এই তিন ভূমিকা একসঙ্গে সামলানো সহজ নয়। এই সময়টায় একজন নারীর সবচেয়ে বেশি মানসিক সমর্থন ও সাহচর্য দরকার।”
মাতৃত্ব বদলে দিয়েছে কিয়ারাকে:
সমালোচনার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও কিয়ারা জানিয়েছেন, মা হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে করেছে আরও সমৃদ্ধ। এই নতুন সফর তাঁর জগতকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে তাঁর অভিনয় দক্ষতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে তিনি মনে করেন। কিয়ারার কথায়, “মাতৃত্ব আমাকে ভেতর থেকে অনেক বেশি পরিণত ও গভীর করেছে। আমি নিশ্চিত, আগামী দিনে পর্দায় দর্শকরা আমার সেরা ভার্সনটিই দেখতে পাবেন।”
গ্ল্যামার জগতের বাইরে কিয়ারার এই সাহসী ও বাস্তবসম্মত মন্তব্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসিত হচ্ছে। মা হওয়ার পর শারীরিক গঠন নিয়ে যে মানসিক চাপের শিকার হন অধিকাংশ নারী, সেই সত্যটিই কিয়ারা সাহসের সঙ্গে তুলে ধরেছেন বলে মনে করছেন নেটিজেনরা।