বিস্ময় বালকের দৌড় থামল ফাইনালে! আইপিএলে নতুন ইতিহাস লিখে কত টাকা কামালেন বৈভব?

আর মাত্র তাঁকে ‘বিস্ময় বালক’ বা ‘প্রোমিজিং ট্যালেন্ট’ বলে ছোট করার সুযোগ নেই। বিহারের ১৫ বছর বয়সী ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী বুঝিয়ে দিলেন, তিনি এসেছেন রাজত্ব করতে। ২০২৬ আইপিএলে ব্যাট হাতে বাইশ গজে যে দাপট দেখালেন এই কিশোর, তা আগামী বহু বছর মনে রাখবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে গতকাল ট্রফি জিততে না পারলেও, ব্যক্তিগত অর্জনে আইপিএলের আকাশ ছুঁয়েছেন বৈভব।

রেকর্ডের ডালি সাজিয়ে বৈভব:
টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকতার প্রতিমূর্তি ছিলেন বৈভব। ১৬ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৭৭৬ রান। পরিসংখ্যান বলছে, এই দীর্ঘ যাত্রায় মাত্র চারবার ১০ রানের নিচে ফিরেছেন তিনি। অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে তুলে নিয়েছেন পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি এবং একটি শতরান।

তবে নয়ের ঘরের আতঙ্ক যেন তাঁর পিছু ছাড়েনি। লখনৌ (৯৩), সানরাইজার্স (৯৭) এবং গুজরাটের বিরুদ্ধে (৯৬) রান করে আউট না হলে, আজ রেকর্ড বইয়ে নতুন ইতিহাস লেখা হতো। তবুও এক মরশুমে সবথেকে বেশি ছক্কা (৭২টি), অরেঞ্জ ক্যাপ এবং আনক্যাপড খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ রানের মালিক হিসেবে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন তিনি।

পুরস্কারের ঝুলি:
ফাইনালে রাজস্থান রয়্যালসের স্বপ্নভঙ্গ হলেও, বৈভবের ব্যক্তিগত সাফল্যের ঝুলি উপচে পড়েছে। টুর্নামেন্টের সেরা পুরস্কারগুলো উঠেছে তাঁর হাতেই:

অরেঞ্জ ক্যাপ: ১০ লক্ষ টাকা

মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (MVP): ১৫ লক্ষ টাকা

সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট (২৩৭): ১০ লক্ষ টাকা

সবচেয়ে বেশি ছক্কা (৭২টি): ১০ লক্ষ টাকা

মোস্ট ইমার্জিং প্লেয়ার: ১০ লক্ষ টাকা

সর্বমোট নগদ পুরস্কার: ৪৫ লক্ষ টাকা

শুধু নগদ অর্থই নয়, চারটি ‘ম্যাচ সেরা’ পুরস্কারের সুবাদে একটি ঝকঝকে গাড়িও জিতেছেন এই কিশোর।

আগামীর নায়ক:
২০০৮ সালের পর রাজস্থানের ট্রফি খরা কাটেনি। এবার বৈভবের বিধ্বংসী ফর্মে সমর্থকরা স্বপ্ন দেখেছিলেন রাজস্থানের দ্বিতীয় আইপিএল জয়ের। রাজস্থান শিবির অনেকটা বৈভবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লেও, ট্রফি অধরাই থেকে গেল। তবে মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চে যেভাবে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেন বৈভব, তাতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—জাতীয় দলের সিনিয়র পর্যায়ে তাঁর অভিষেক এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। ট্রফি না জিতলেও, এই আইপিএল থেকে বৈভব যা অর্জন করলেন, তাতে তিনি নিজেই এখন ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন ‘ব্র্যান্ড’।