সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা: ‘হিংসাত্মক রাজনীতি করছে বিজেপি’, সরব অখিলেশ-খাড়্গে

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা ও হেনস্থার ঘটনা নিয়ে এখন সরগরম জাতীয় রাজনীতি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একাধিক নেতা কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন।

বিরোধী নেতাদের প্রতিক্রিয়া:

  • অখিলেশ যাদব: সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদব এই ঘটনাকে ‘প্রাণঘাতী হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার প্রমাণ করেছে যে, তারা বিদ্বেষপূর্ণ ও হিংসাত্মক রাজনীতি ছাড়া কিছুই বোঝে না। এই স্পর্শকাতর সময়ে পুলিশের অনুপস্থিতি একটি বড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়।”

  • মল্লিকার্জুন খাড়্গে: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে হামলার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “বিরোধী নেতার সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না রাখা বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতিরই প্রমাণ। সরকার ও প্রশাসনের উচিত বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।”

বিজেপির প্রতিক্রিয়া: পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার জানিয়েছেন, “এই ঘটনা গণতন্ত্রে কোনোভাবেই কাম্য নয়। তবে এই ক্ষোভের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভিন্ন অত্যাচারে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কাজ করেছে।” যদিও তিনি স্পষ্ট করেছেন, রাজনৈতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এমনভাবে হওয়া উচিত নয়, যার জন্য তিনি ঘটনার প্রতিবাদও করেছেন।

কী ঘটেছিল সোনারপুরে? শনিবার বিকেলে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার পথে অভিষেককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরিস্থিতি সামলাতে তিনি গাড়ি ছেড়ে বাইকে উঠলেও জনরোষের হাত থেকে রেহাই পাননি। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো ছোড়া হয় এবং কিল-ঘুষি মারা হয় বলে অভিযোগ। নিরাপত্তার খাতিরে অভিষেক হেলমেট পরে থাকলেও বিক্ষোভকারীরা তাঁর জামা ছিঁড়ে দেয়।

বর্তমান পরিস্থিতি: ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারী সাধারণ মানুষের একাংশ দাবি করেছেন, অতীতের বিভিন্ন বক্তব্যের জেরে তাঁরা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে উঠলেও, বর্তমানে এলাকা পরিস্থিতি পুলিশি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।