সোমবতী অমাবস্যা: ১৫ জুন পিতৃপুরুষের আশীর্বাদ ও পুণ্য লাভের বিশেষ যোগ, কী করবেন আর কী করবেন না?

হিন্দু ধর্মে অমাবস্যা তিথির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে যখন অমাবস্যা তিথি সোমবার পড়ে, তখন তাকে ‘সোমবতী অমাবস্যা’ বলা হয়। এটি অত্যন্ত পবিত্র ও শুভ তিথি হিসেবে গণ্য হয়। জ্যোতিষ শাস্ত্রের গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ জুন একটি বিরল সোমবতী অমাবস্যার যোগ তৈরি হচ্ছে, যা ভক্তদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কেন এই অমাবস্যা বিরল? জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের এই অমাবস্যাটি জ্যৈষ্ঠ মাসের ‘অধিক মাস’-এ (পুরুষোত্তম মাস) পড়ছে। অধিক মাস প্রতি তিন বছর অন্তর একবার আসে। সেই অধিক মাসে সোমবতী অমাবস্যার সংযোগ কয়েক দশকে একবারই ঘটে। ১৫ জুন একই দিনে মিথুন সংক্রান্তিও থাকায় এই দিনটির গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সূর্য এদিন বৃষ রাশি থেকে মিথুন রাশিতে প্রবেশ করবে।

এই দিনে কী কী করবেন? সোমবতী অমাবস্যায় আত্মিক শান্তি ও পুণ্য অর্জনের জন্য শাস্ত্রীয় মতে কিছু নিয়ম পালন করা শুভ বলে মনে করা হয়:

  • পবিত্র স্নান ও দান: কোনো পবিত্র নদী বা জলাশয়ে স্নান করে সামর্থ্য অনুযায়ী দুস্থদের দান করুন।

  • শিবের আরাধনা: অমাবস্যার দিন দেবাদিদেব মহাদেবের পুজো করা অত্যন্ত ফলদায়ক।

  • পিতৃপুরুষের তর্পণ: এটি পিতৃপুরুষদের তিথি হিসেবে পরিচিত। তাই তাঁদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করুন।

  • জীবসেবা: পশু-পাখিদের অন্নজল দিয়ে সেবা করুন।

  • ব্রাহ্মণ ভোজন: সম্ভব হলে কোনো যোগ্য ব্রাহ্মণকে ভোজন করিয়ে দান-দক্ষিণা প্রদান করুন।

কী কী করবেন না? (সতর্কতা):

  • এই দিন আমিষ বা তামসিক আহার (মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন) বর্জন করা উচিত।

  • যেকোনো ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকুন।

  • বয়স্ক ব্যক্তিদের অপমান করা বা আঘাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

  • শুভ কার্যে কালো রঙের পোশাক পরা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

  • অমাবস্যার রাতে কোনো নির্জন স্থান বা শ্মশানঘাটের মতো জায়গা এড়িয়ে চলাই ভালো।

পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ দিনে নিয়ম মেনে পুজো-অর্চনা করলে জীবনের অশুভ প্রভাব দূর হয় এবং পিতৃপুরুষদের আশীর্বাদে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকে।