পুনে বিষমদ কাণ্ড! মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮, সিআইডি তদন্তে ফাঁস মিথানল মেশানোর ভয়াবহ ষড়যন্ত্র

পুনে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকায় বিষমদ পান করে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮-তে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার ভয়াবহতা ও প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে তদন্তভার অপরাধ তদন্ত বিভাগ (CID)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কর্তব্যে অবহেলার দায়ে ৮ পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ভয়াবহ মিথানল কারসাজি:
তদন্তে জানা গেছে, অধিক মুনাফার লোভে অভিযুক্তরা মুম্বাই থেকে মিথানল আনিয়ে তা দেশি মদের সঙ্গে মিশিয়েছিল। মদের তীব্রতা ও নেশা বাড়ানোর জন্য এই বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো হয়, যা পান করার পরেই মানুষের শরীর খারাপ হতে শুরু করে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও মদে মিথানলের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ৩৫ লিটারের এক ক্যান মদ ১,৯০০ টাকায় কিনে তা প্রায় ২,৭০০ টাকায় বিক্রি করা হতো।

মূল হোতা ও গ্রেফতারি:
এই বিষাক্ত মদের চক্রের মূল পান্ডা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৭৩ বছর বয়সী সিং তখত সিং ভিরকা ওরফে ‘সর্দারজি’-কে। ধৃতদের মধ্যে গুরমঙ্গত সিং ভিরকা, যোগেশ রামচন্দ্র ওয়াংখেড়ে, রাধেশ্যাম প্রজাপতি প্রমুখ রয়েছেন। স্থানীয় উরলি কাঞ্চন গ্রামে অবৈধভাবে এই মদ তৈরি করা হতো এবং সেখান থেকে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় ও পুনের বিভিন্ন মদের আড্ডায় পাচার করা হতো। আদালত ধৃতদের ৮ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও পুলিশের ভূমিকা:
এই ঘটনা প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ফুগেওয়াড়িতে মৃত্যুর ঘটনাগুলোকে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করায় ৮ জন পুলিশ অফিসারকে বরখাস্ত ও ৩ জনকে বদলি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্য সরকার।

মৃত ও চিকিৎসাধীনদের তালিকা:
মৃতদের মধ্যে হাদাপসার এলাকার ৬ জন এবং পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকার ১২ জন অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয়দের দাবি, মৃতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি প্রতিবেদনের চেয়েও বেশি হতে পারে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। অনেকেরই দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

তদন্তের পরবর্তী ধাপ:
সিআইডি এখন মিথানল সরবরাহকারী এবং এর নেপথ্যে থাকা বড় কোনো সিন্ডিকেট রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। রাজ্য আবগারি বিভাগের বিরুদ্ধেও শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত। আগামী কয়েক দিনে আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনা রয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।