গাড়ির বীমা কেনার আগে এই ভুলগুলো করছেন না তো? বড় আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে টিপস জানুন

বর্তমান সময়ে রাস্তার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি আর মেরামতের আকাশছোঁয়া খরচের কথা মাথায় রাখলে গাড়ির বীমা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং আর্থিক সুরক্ষার এক অনিবার্য শর্ত। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বীমা কেনার সময় এমন কিছু সাধারণ ভুল করেন, যার মাশুল গুনতে হয় দুর্ঘটনার পর ক্লেম বা দাবি করার সময়। আজ জেনে নিন বীমা কেনার সময় ও পরে কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

১. ভুল প্রিমিয়াম-ফোকাস:
অনেক ক্রেতাই শুধুমাত্র সস্তা প্রিমিয়াম দেখে পলিসি বেছে নেন। মনে রাখবেন, কম দামি পলিসিতে প্রায়শই জিরো ডেপ্রিসিয়েশন, ইঞ্জিন সুরক্ষা বা রোডসাইড অ্যাসিস্ট্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলো থাকে না। দুর্ঘটনার পর এই সুবিধাগুলোর অভাবেই আপনার পকেট থেকে বড় অঙ্কের টাকা বেরিয়ে যেতে পারে। তাই প্রিমিয়ামের তুলনায় পলিসির কভারেজ ও সুবিধার দিকে বেশি নজর দিন।

২. তথ্য গোপন করা:
গাড়ির বীমা করার সময় গাড়ির মডিফিকেশন, ব্যবহারের ধরণ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা একেবারেই উচিত নয়। বীমা কোম্পানি তদন্তের সময় ভুল তথ্য খুঁজে পেলে সরাসরি দাবি প্রত্যাখ্যান করতে পারে। সুতরাং, সবসময় সঠিক ও স্বচ্ছ তথ্য প্রদান করুন।

৩. দাবি দাখিলের নিয়মকানুন:
দুর্ঘটনা ঘটার সাথে সাথে বীমা কোম্পানিকে অবহিত করুন। দেরি করলে দাবি প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে। মনে রাখবেন, কিছু পরিস্থিতিতে বীমা কোম্পানি কখনোই দাবি গ্রহণ করে না:

মদ্যপ বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো।

বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো।

মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পলিসি নবায়ন না করা।

৪. অননুমোদিত গ্যারেজে মেরামত:
ছোটখাটো দুর্ঘটনার পর অনেক মালিকই পরিচিত কোনো স্থানীয় গ্যারেজে গাড়ি সারিয়ে ফেলেন। এতে বীমা কোম্পানির কাছ থেকে টাকা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সবসময় বীমা কোম্পানি অনুমোদিত (Cashless Network) সার্ভিস সেন্টারে গাড়ি নিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।