পাহাড়ে পর্যটকদের ঢল! জোশীমঠ থেকে মানালি—চরম যানজটে নাজেহাল তীর্থযাত্রীরা!

সপ্তাহান্তের ছুটি আর চার ধাম যাত্রার মরসুম—এই দুইয়ের জোড়া ফলায় কার্যত অবরুদ্ধ উত্তর ভারতের পাহাড়ি জনপদগুলো। উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটক এবং তীর্থযাত্রীদের রেকর্ড ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। মানালি, মুসৌরি ও নৈনিতালের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলির পাশাপাশি সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জোশীমঠে।
২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের কবলে জোশীমঠ
সূত্রের খবর, জোশীমঠের পাহাড়ি রাস্তাগুলোতে যানবাহনের সারি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে মারোয়াড়ি হয়ে বিষ্ণুপ্রয়াগ থেকে জোশীমঠ পর্যন্ত এলাকার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষ্ণুপ্রয়াগ থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথজুড়ে সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। সংকীর্ণ রাস্তা এবং হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া তীর্থযাত্রীদের চাপের মুখে যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির ভেতরেই আটকে থাকতে হচ্ছে পর্যটকদের।
তীব্র গরমে নাজেহাল সাধারণ মানুষ
এই তীব্র যানজটের ফলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শিশু, বয়স্ক এবং পর্যটকরা। অসহ্য গরমে পাহাড়ি রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাধারণ পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও এই যানজটের জেরে দৈনন্দিন প্রয়োজনে বের হতে পারছেন না।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসনকে মাঠে নামানো হলেও, যানজট নিরসনে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ বলে অভিযোগ উঠেছে। রাস্তার প্রশস্ততা কম হওয়া এবং তীর্থযাত্রীদের অনিয়ন্ত্রিত ভিড়ের কারণে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন আপাতত ধৈর্য ধরার আবেদন জানালেও, পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।