তৃণমূলের পালাবদলের পরেই স্বামী স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে বিচ্ছেদ! সব ‘মিথ্যে’ দাবি করে বোমা ফাটালেন জুঁই

তৃণমূলের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই শিরোনামে উঠে এসেছেন কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস। দলের পরাজয় ও স্বামী স্বরূপ বিশ্বাসের ‘প্রভাবহীন’ হয়ে পড়ার সময়ের সঙ্গে নিজের বৈবাহিক বিচ্ছেদের ঘোষণার এক অদ্ভুত কাকতালীয় মিল খুঁজে পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল। চর্চা তুঙ্গে—তবে কি স্বরূপের ক্ষমতা খর্ব হওয়ার কারণেই এই সিদ্ধান্ত? এই প্রশ্নের জবাবে এবার সরাসরি মুখ খুললেন জুঁই বিশ্বাস।
‘সম্পর্কের বিচ্ছেদ রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত’
Aaj Tak Bangla-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জুঁই বিশ্বাস সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে অনেকেই আমাদের সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের কথা জানতেন।” জুঁইয়ের দাবি, ২০১৯ সাল থেকেই তিনি এবং স্বরূপ বিশ্বাস মিউচুয়ালি সেপারেটেড। চলতি বছরের শুরু থেকে তাঁদের আইনি বিচ্ছেদের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তাঁর সাফ কথা, “ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাগত জীবন কখনোই এক হতে পারে না। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে এর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।”
আলাদা ঠিকানায় ৫ বছর
জুঁই বিশ্বাস জানিয়েছেন, কোভিডের পরবর্তী সময় থেকেই তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে তাঁকে ও স্বরূপ বিশ্বাসকে কোনো মঞ্চে একসঙ্গে দেখা যায়নি। স্বরূপ বিশ্বাসের টলিউড সংক্রান্ত কাজকর্ম বা প্রভাবের বিষয়ে তিনি কোনোভাবেই ওয়াকিবহাল নন বলে দাবি করেন কাউন্সিলর। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, দলীয় কাজের বাইরে স্বরূপের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগই নেই।
মেসি-বিতর্ক ও শতদ্রু দত্তর সাথে সংঘাত
ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি মেসিকে ঘিরে চলা বিতর্ক নিয়েও সরব হয়েছেন জুঁই। শতদ্রু দত্তর দাবি অনুযায়ী, মেসিকে দেখার জন্য তিনি জোর করে ভিড়ে ঢুকে সেলফি তোলার চেষ্টা করেছিলেন—এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছেন জুঁই। তিনি বলেন, “আমি মেসির পাশে গিয়ে পোজ দিইনি। ৩০ মিনিটের মধ্যে মাত্র একবার তাঁকে এক ঝলক দেখতে গিয়েছিলাম।” পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে জুঁই বলেন, “শতদ্রু দত্ত যা খুশি করতে পারেন। তাঁর কাছে যদি সত্যিই প্রমাণ থাকে যে আমি জোর করে ঢুকেছিলাম, তবে তিনি আদালতে যান। এ নিয়ে আমি আর কোনো বাড়তি মন্তব্য করতে চাই না।”
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা থাকলেও, জুঁই বিশ্বাসের এই সাফাই ব্যক্তিগত জীবনের সমীকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। এখন দেখার, এই বিতর্কিত অধ্যায়ের জল কতদূর গড়ায়।