অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার ফর্মে নজিরবিহীন তথ্য তলব! কেন এত কড়াকড়ি? মুখ খুললেন মন্ত্রী

শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্যের নতুন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র আবেদন প্রক্রিয়া। তবে এই প্রকল্পের ১২ পাতার বিশাল দীর্ঘ ফর্ম নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ফর্মে পরিবারের সমস্ত সদস্যের নাম, আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আইএফএসসি কোড-সহ একাধিক ব্যক্তিগত তথ্যের বিস্তারিত বিবরণ চাওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের মধ্যে এই ফর্মের জটিলতা ও তথ্যের ব্যাপকতা নিয়ে কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য তলব ও অডিট নিয়ে মন্ত্রীর ব্যাখ্যা
এত বিশাল তথ্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আমরা ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই সমস্ত ডেটা একবারেই সংগ্রহ করে নিতে চাইছি। পাশাপাশি, আয়করের বিষয়টিও আমরা খতিয়ে দেখছি।” তিনি আবেদনকারীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ফর্মে কোনো ভুল বা অসত্য তথ্য দেবেন না। কারণ, সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া চলবে। প্রকৃত গরিব ও অভাবী মহিলারা যাতে সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে দাবি মন্ত্রীর।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও পুরনো প্রকল্পের বিতর্ক
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশের সময় এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তৃণমূল জমানায় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা অনেক পুরুষও নিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই বিষয়ে অগ্নিমিত্রা পাল আরও সরব হয়ে জানান, বিগত ১৫ বছরে অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকা বণ্টন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “এতদিন সংখ্যালঘু পুরুষ ও বহিরাগতরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেত। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় এই প্রকল্প চলে, তাই যার প্রাপ্য তিনিই যেন সুবিধা পান, সেটা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”
৩ জুন থেকে যাত্রা শুরু
আগামী ৩ জুন নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে কয়েকজনকে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হচ্ছে। মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, যাদের আয়কর রিটার্ন (ITR) ফাইল করার কোনো ইতিহাস নেই, তারাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশ:
১. ফর্মের প্রতিটি তথ্য নির্ভুলভাবে প্রদান করুন।
২. পরিবারের সকল সদস্যের আধার নম্বর ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ প্রস্তুত রাখুন।
৩. কোনো তথ্য গোপন করবেন না, কারণ তা পরবর্তীতে যাচাই প্রক্রিয়ায় ধরা পড়তে পারে।
সরকারের এই নতুন উদ্যোগ এবং প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখার মরিয়া প্রচেষ্টা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত এই প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়।