রাজ্যে অনেক মদের দোকান কি বন্ধ হয়ে যাবে? নতুন নিয়মে উদ্বেগে ব্যবসায়ীরা

স্কুল, কলেজ ও মন্দিরের এক কিলোমিটারের মধ্যে মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া হবে না—মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে মদের ব্যবসায়ী মহলে তৈরি হয়েছে চরম জল্পনা ও উদ্বেগ। বুধবার এই বিষয়ে আবগারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মদের খুচরো ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
মূল সমস্যা কোথায়? ব্যবসায়ীদের প্রধান প্রশ্ন হলো, মুখ্যমন্ত্রীর এই নিয়ম কি শুধুমাত্র নতুন লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, নাকি বর্তমানে চালু থাকা দোকানগুলোর ওপরও এর প্রভাব পড়বে? মুখ্যমন্ত্রী তার ঘোষণায় কেবল ‘লাইসেন্স দেওয়া হবে না’ বলে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু বিদ্যমান লাইসেন্স বাতিল বা স্থানান্তর নিয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা দেননি। ফলে ব্যবসায়ীদের মনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ভবিষ্যতে তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে কি না।
বৈঠকের নির্যাস: বুধবারের বৈঠকে আবগারি দপ্তরের আধিকারিকদের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে যে, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানের সচল দোকানগুলোর ওপর এই নতুন বিধিনিষেধ সরাসরি কার্যকর হওয়ার কথা নয়। তবে, সরকারিভাবে কোনো লিখিত বিজ্ঞপ্তি বা স্পষ্ট নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না। প্রশাসনিক মহলের মতে, নতুন মন্ত্রিসভা পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত হওয়ার আগে এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো নির্দেশিকা প্রকাশের সম্ভাবনা কম।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও পরিস্থিতি:
-
কিছু এলাকায় স্থানীয় আবগারি আধিকারিকরা দোকানগুলোর কাছাকাছি স্কুল, কলেজ ও মন্দিরের তালিকা তৈরি রাখার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন।
-
হোটেল, রেস্তোরাঁ ও সামাজিক ক্লাবের বারগুলোর ক্ষেত্রে এই নিয়ম কীভাবে প্রয়োগ হবে, তা নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্টতা নেই।
-
প্রতি বছর ১ এপ্রিল লাইসেন্স নবীকরণের সময় থাকে, তাই এই নিয়ম অদূর ভবিষ্যতে লাইসেন্স নবীকরণের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না—তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই ধোঁয়াশা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আবগারি দপ্তর বা নবান্ন থেকে এই বিষয়ে কবে চূড়ান্ত কোনো নির্দেশিকা জারি করা হয়।