মহাকাশে রহস্যময় বিপদ! বাকশক্তি হারালেন মহাকাশচারী, তড়িঘড়ি অভিযান শেষ করল নাসা

মহাকাশ অভিযান মানেই অজানাকে জানার লড়াই। তবে মাঝে মাঝে সেই লড়াইয়ে নেমে পড়তে হয় ভয়াবহ বিপদের মুখে। সম্প্রতি মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে, যা মহাকাশচারীদের শারীরিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। নাসার প্রবীণ মহাকাশচারী মাইক ফিনকে (Mike Fincke) মহাকাশে থাকাকালীন হঠাৎ করেই তাঁর বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

কী ঘটেছিল সেই অভিযানে? আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) অবস্থানের সময় ফিনকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। হঠাৎ করেই তিনি কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। মহাকাশের বিরূপ পরিবেশে শরীর যে দীর্ঘমেয়াদী চাপের মুখে থাকে, এটি তারই কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নাসা দেরি না করে দ্রুত ওই অভিযানটি কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফিনকে এবং তাঁর সতীর্থদের জরুরি ভিত্তিতে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়।

মহাকাশ গবেষণায় নতুন চ্যালেঞ্জ মহাকাশে দীর্ঘদিন অবস্থান করলে পেশি ও হাড়ের ক্ষয় হওয়ার কথা আমাদের জানা ছিল। কিন্তু একজন মহাকাশচারীর স্নায়বিক বা শারীরিক প্রতিক্রিয়ার ফলে ‘বাকশক্তি’ হারানোর ঘটনা অত্যন্ত বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মহাকাশের রেডিয়েশন, মাধ্যাকর্ষণহীনতা বা মাইক্রোগ্র্যাভিটি শরীরের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

ভবিষ্যৎ অভিযানে সংশয় নাসার এই ঘটনাটি কেবল একটি একক দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি সতর্কবার্তা। মানুষ যখন মঙ্গলে বা চাঁদে দীর্ঘস্থায়ী ঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনা করছে, তখন মহাকাশচারীদের শারীরিক সুরক্ষার বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। এই ঘটনার পর নাসা মহাকাশচারীদের শারীরিক পরীক্ষার প্রোটোকল আরও কঠোর করবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

এখন বড় প্রশ্ন একটাই—মহাকাশের এই কঠিন পরিবেশে কি মানুষের শরীর মানিয়ে নিতে আদৌ সক্ষম? নাকি প্রতিটি মহাকাশ অভিযান এখন আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে চলেছে? নাসা এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত বিবৃতি না দিলেও, বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।