বকরিদ স্পেশাল: ছাগলের দামে বড় লাফ! নবাবদের শহরে ৪০০ কোটির বাণিজ্যে তোলপাড়

সামনেই বকরিদ। উৎসবের মরসুমে দেশজুড়ে ছাগলের বাজারগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়। চাহিদা তুঙ্গে থাকায় দিল্লি, মুম্বাই, হায়দ্রাবাদ থেকে শুরু করে কলকাতা—সবখানেই ছাগলের দাম গত বছরের তুলনায় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ জাতের ছাগলের দর হাঁকা হচ্ছে লক্ষাধিক টাকা।
কোথায় কত দাম? মুম্বাইয়ের বিখ্যাত দেওনার হাটে ২০ কেজি ওজনের ছাগলের দাম ১৫-২৫ হাজার টাকা। তবে তোতাপরি, বিতল বা হোয়াইট কোটার মতো প্রিমিয়াম জাতের ছাগল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ হাজার থেকে ১.২ লক্ষ টাকায়। ১০০ কেজির বেশি ওজনের ছাগল ৩.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিকোচ্ছে। দিল্লির জামা মসজিদ বা গাজিপুরের বাজারেও ভিআইপি ছাগলের দাম ১.৩ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছুঁয়েছে। পিছিয়ে নেই হায়দ্রাবাদ ও কলকাতার রাজাবাজারও; সেখানেও বড় ও ওজনদার ছাগলের দাম ২.৫ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
১০-১৫ লক্ষ টাকার ‘বিশেষ’ ছাগল! এবার বাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্যের ছাগল। শরীরে ধর্মীয় প্রতীক বা বিশেষ নকশাযুক্ত ছাগলগুলো ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের চমকে দিয়েছে।
লখনউতে ৪০০ কোটির বাণিজ্য উৎসবের বাজারে সবথেকে চমকপ্রদ তথ্য এসেছে লখনউ থেকে। উত্তরপ্রদেশের নবাবের শহরে এবারের মোট ব্যবসার পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধু দুবাগা ও খাদরা সেতুর বাজারেই মাত্র ছয় দিনে ৬০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেও ক্রেতাদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। পশুপালকরাও ছাগলকে গরম থেকে বাঁচাতে কুলার, ফ্যান এবং শরবতের মতো বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছেন।
গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা বকরিদকে কেন্দ্র করে তৈরি এই বিশাল বাজার শুধু ছাগল ব্যবসায়ীদের নয়, বরং পরিবহন চালক, পশুখাদ্য বিক্রেতা ও প্রান্তিক পশুপালকদের জীবনেও আর্থিক সমৃদ্ধি নিয়ে এসেছে। উৎসবের এই বিপুল লেনদেন গ্রামীণ অর্থনীতিকে এক নতুন গতি দিয়েছে, যা হাজার হাজার পরিবারের আয়ের বড় উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।