অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে বাদ ৫.৫ লক্ষ নাম! কেন কাটছাঁট? চূড়ান্ত তালিকায় কী থাকবে?

রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের জন্য উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপেই প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ মহিলার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। প্রকল্পের শর্তাবলী এবং নথিপত্র যাচাইয়ের কড়াকড়িতেই এই ছাঁটাই বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন বাদ পড়ল এত নাম? প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। যে সকল কারণ বা অসংগতির কারণে নাম বাদ পড়ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • তথ্যগত অমিল: আধার কার্ড, রেশন কার্ড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের মধ্যে গরমিল।

  • একাধিক প্রকল্পে সুবিধা: একই পরিবারের একাধিক সদস্যের বা একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে যাচাই করা হচ্ছে।

  • অযোগ্যতা: এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি, ডুপ্লিকেট ভোটার বা যারা পূর্বে স্থানান্তরিত হয়েছেন, তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

  • ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিষয়: যারা অতীতে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন করে সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়।

পরিসংখ্যানের নিরিখে: সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যাচাই প্রক্রিয়ার আওতায় ছিল প্রায় ২৯ লক্ষ মহিলার নাম। তার মধ্যে প্রায় ১৯ শতাংশ অর্থাৎ ৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৫২৮ জনের নাম আপাতত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় সবথেকে বেশি, প্রায় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৪৮১ জন উপভোক্তার নাম বাদ গিয়েছে। সরকারের দাবি, এই প্রক্রিয়ার ফলে রাজ্যের বাৎসরিক প্রায় ১৯৮২ কোটি টাকা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখনও সুযোগ আছে কি? প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এটি চূড়ান্ত তালিকা নয়। যাচাই প্রক্রিয়া এখনও চলমান। কিছু নাম ওয়েটিং লিস্টে রাখা হয়েছে, যাদের মামলার নিষ্পত্তি সাপেক্ষে ভবিষ্যতে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এছাড়া নথিপত্রের ভুল সংশোধন বা দাবিপূরণের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে পরবর্তী নির্দেশিকার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ঘিরে এই তথ্য যাচাই ও নাম বাদ যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বেড়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, নাম যাচাইয়ের নামে বহু প্রকৃত উপভোক্তা বঞ্চিত হতে পারেন। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের দাবি— সরকারি কোষাগারের সঠিক ব্যবহারের জন্য ভুয়ো বা অযোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা একান্ত প্রয়োজন।

এখন সাধারণ উপভোক্তাদের নজর চূড়ান্ত তালিকার দিকে। আপনি যদি এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করে থাকেন, তবে আপনার নিকটবর্তী সরকারি কেন্দ্র বা পোর্টালের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থা যাচাই করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়।