অষ্টম বেতন কমিশন: সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়বে ৪০০ শতাংশ? নয়া প্রস্তাবে তোলপাড়!

অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক চর্চা। এর মধ্যেই ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে টেকনিক্যাল সুপারভাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (IRTSA)-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব সরকারি কর্মীদের মধ্যে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। তাদের দাবি মেনে নেওয়া হলে, সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির হার ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

কী এই নতুন প্রস্তাব?

সাধারণত বেতন নির্ধারণের জন্য একটি অভিন্ন ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু IRTSA-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, কর্মীদের বেতন স্তর (Level) অনুযায়ী পাঁচটি আলাদা ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি গৃহীত হলে বেতনের অংক এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাবে।

প্রস্তাবিত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর তালিকা:

বেতন স্তর (Pay Level) প্রস্তাবিত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর
১ থেকে ৫ ২.৯২
৬ থেকে ৮ ৩.৫০
৯ থেকে ১২ ৩.৮০
১৩ থেকে ১৬ ৪.০৯
১৭ থেকে ১৮ ৪.৩৮

বেতন বৃদ্ধির একটি উদাহরণ:

সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, ১৭-১৮ নম্বর স্তরের একজন কর্মী, যাঁর বর্তমান মূল বেতন ২.৫ লক্ষ টাকা, তাঁর সংশোধিত মূল বেতন ৪.৩৮ ফ্যাক্টর অনুযায়ী বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ১০.৯৫ লক্ষ টাকা। একইভাবে, ৬-৮ নম্বর স্তরের কর্মীদের মূল বেতন ৪৫,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১.৫৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যান্য দাবি ও যুক্তি:

বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি IRTSA আরও কিছু জোরালো দাবি জানিয়েছে:

  • কারিগরি কর্মীদের বিশেষ মর্যাদা: রেলের নিরাপত্তা ও কারিগরি কাজের গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো।

  • ইনক্রিমেন্ট: বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা।

  • মহার্ঘ ভাতা (DA): বেতন পুনর্মূল্যায়নের আগেই ৫০ শতাংশ ডিএ মূল বেতনের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া।

  • পেনশন: নতুন পেনশন ব্যবস্থা (NPS) নিয়ে অসন্তোষ থাকায় OPS-এর মতো নিশ্চিত পেনশনের দাবি।

  • পারিবারিক একক: বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি ইউনিট’ বা পারিবারিক এককের সূত্র ৩ থেকে বাড়িয়ে ৫ করার আবেদন।

সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ:

এই বিপুল বেতন বৃদ্ধি ও পেনশন সংক্রান্ত আর্থিক বোঝা বহন করা সরকারের জন্য কতটা সম্ভব, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার হয়তো সব দাবি না মেনে একটি মধ্যপন্থা বা ভারসাম্যপূর্ণ পথ অবলম্বন করতে পারে। কারণ, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কেবল কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ওপর নয়, বরং রাজ্য সরকারগুলোর আর্থিক কাঠামোর ওপরও পড়বে।

এডিটরস নোট: যদিও বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ৪.০ বা তার বেশি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের জন্য সওয়াল করছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং মুদ্রাস্ফীতির মতো বিষয়গুলোর ওপর।