পুলিশের মানসিক চাপে ‘মিউজিক থেরাপি’! নবান্নের নতুন ভাবনায় বড় সংস্কারের ইঙ্গিত

উৎসব, রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা ভিআইপি নিরাপত্তা—বছরের বেশিরভাগ সময় দম ফেলার সুযোগ পান না রাজ্য পুলিশকর্মীরা। দিনের পর দিন টানা ১৩-১৪ ঘণ্টা ডিউটি করায় বাহিনীর অন্দরে জমেছে মানসিক ক্লান্তি ও ক্ষোভ। এই সমস্যা সমাধানে এবার নতুন পথের সন্ধান করছে রাজ্য প্রশাসন। সূত্রের খবর, পুলিশকর্মীদের মানসিক অবসাদ কাটাতে নবান্নে ‘মিউজিক থেরাপি’ চালুর প্রস্তাব জমা পড়েছে।
কেন এই মিউজিক থেরাপি?
সুর, ছন্দ এবং সংগীতের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানোর পদ্ধতিই হলো মিউজিক থেরাপি। উদ্বেগ বা অবসাদ কাটাতে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকরা এই পদ্ধতিকে অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করেন। পুলিশকর্মীদের ক্রমবর্ধমান কাজের চাপ ও মানসিক ক্লান্তি কমাতে প্রশাসনের কর্তারা এই পদ্ধতিকেই হাতিয়ার করতে চাইছেন।
পুলিশের বিপুল সংকট ও কর্মীবৃদ্ধি
‘ব্যুরো অফ পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যার বিপরীতে যেখানে ১৬৭ জন পুলিশকর্মী থাকার কথা, সেখানে বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র ১০০ জনের কাছাকাছি। এই ঘাটতি পূরণ করতে এবং কাজের পরিবেশ উন্নত করতে সরকার প্রায় ২০ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
নবান্নে জমা পড়া প্রস্তাবের মূল বৈশিষ্ট্য:
১. নির্ধারিত ডিউটি আওয়ার: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে পুলিশকর্মীদের নির্দিষ্ট শিফটে কাজ করানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২. দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড: নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং স্কুল-কলেজ সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়াতে একটি বিশেষ মহিলা পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
৩. আধুনিক ব্যবস্থাপনা: প্রাক্তন আইপিএস ও বিধায়ক দেবাশিস ধরের জমা দেওয়া রিপোর্টে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে পুলিশি ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, নিয়োগের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির এই প্রয়াস সফল হলে রাজ্য পুলিশের কর্মক্ষমতা ও কাজের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।