ভোটার তালিকায় বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের! ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়াকে সিলমোহর দিল আদালত

ভারতের ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের গৃহীত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে আইনত বৈধ বলে স্বীকৃতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়াটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সাংবিধানিক লক্ষ্যের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই রায়ের ফলে আগামী ৩০ মে থেকে ১৬টি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হতে চলা এসআইআর-এর তৃতীয় ও চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ নিয়ে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও তাৎপর্য
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে যে, নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেনি। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, “এই এসআইআর প্রক্রিয়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাকে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ করে না। এটি বিদ্যমান নির্বাচনী আইনের ধারা ২১(৩)-এর সীমানার মধ্যেই সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৪-এর নির্দেশকে বাস্তবায়িত করছে।”

আদালত আরও জানিয়েছে যে, সাধারণ সংশোধন প্রক্রিয়ার চেয়ে এর কার্যপদ্ধতি ভিন্ন হলেও, শুধুমাত্র সেই কারণে এই প্রক্রিয়াকে বাতিল করা যায় না। এই রায় নির্বাচন কমিশনের সেই দাবির পক্ষেই গেল, যেখানে তারা বারবার বলেছে যে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অনাগরিকদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অভিযান অপরিহার্য।

বিরোধী দলের আপত্তি ও অচলাবস্থার অবসান
নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে এই ইস্যু নিয়ে যে তীব্র অচলাবস্থা চলছিল, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশিকা তার অবসান ঘটাল। বিরোধী দলগুলো মূলত এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়কাল এবং এর ফলে বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় এই প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের আজকের রায়ের পর বিষয়টি আইনত চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেল।

আগামী ৩০ মে থেকে শুরু হতে চলা এই তৃতীয় পর্যায়ের কাজ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং ভোটার তালিকার নির্ভুলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। বিরোধীদের অভিযোগের মুখে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় নির্বাচন কমিশনের হাতে আরও বড় আইনি শক্তি তুলে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।