‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্পের ফর্ম বিলি শুরু! মহিলারা প্রতি মাসে পাবেন ৩০০০ টাকা, জানুন আবেদনের নিয়ম

আজ, বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো রাজ্য সরকারের অত্যন্ত প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্পের ফর্ম বিলি। নবান্ন থেকে এই মেগা প্রকল্পের সূচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নারী, শিশু ও মহিলা সুরক্ষা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে এই প্রকল্প ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে।

আবেদনের নিয়ম ও প্রক্রিয়া
আবেদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতি আনতে সরকার অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমই খোলা রেখেছে। গ্রাহকরা নিজেদের সুবিধামতো যেকোনো পদ্ধতিতে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিক মহিলারা পাবেন। আবেদন প্রক্রিয়ায় কার্যকর করা হয়েছে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ নীতি। অর্থাৎ, যাঁরা যত দ্রুত ফর্ম পূরণ ও জমা করবেন, তাঁরা তত দ্রুত এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন এবং প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা লাভ করবেন।

বড় ঘোষণা: দুশ্চিন্তার কারণ নেই
যেসব উপভোক্তা এখনও ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’-এর সুবিধা পাননি বা আবেদন প্রক্রিয়ায় দেরি হচ্ছে, তাঁদের জন্য স্বস্তির বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, যতদিন না নতুন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া শুরু হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত পুরোনো ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের নিয়মে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসতেই থাকবে। অর্থাৎ, কোনো উপভোক্তাই সরকারি আর্থিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত হবেন না।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “যত তাড়াতাড়ি এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, তত দ্রুত বেনিফিট দেওয়া সম্ভব হবে। ফর্ম জমা পড়ার সাথে সাথেই যাচাইকরণ শেষে ৩০০০ টাকা ট্রান্সফার শুরু হয়ে যাবে।”

বিএলও-দের ওপর বাড়তি দায়িত্ব
সরকারি প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নবান্ন এবার মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’-সহ সরকারের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণের দায়িত্বে থাকছেন বিএলও (BLO) বা বুথ স্তরের আধিকারিকরা। এক্ষেত্রে মূলত বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের এই বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।