অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে শাহের মাস্টারস্ট্রোক! ‘ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন’ খতিয়ে দেখতে হাই লেভেল কমিটি গঠন

দেশের নিরাপত্তা ও জনতাত্ত্বিক কাঠামো (Demographic structure) রক্ষা করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে ডেমোগ্রাফিক যে পরিবর্তন ঘটছে, তার গভীর তদন্ত এবং সমাধানের লক্ষ্যে একটি উচ্চ-स्तरीय (High-level) কমিটির ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

কমিটির নেতৃত্বে কারা? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গঠিত এই বিশেষ কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাवलेকর। কমিটিকে শক্তিশালী করতে আরও তিনজন অভিজ্ঞ সদস্যকে রাখা হয়েছে। তাঁরা হলেন:

  • দুর্গা শঙ্কর মিশ্র

  • বালাজি শ্রীবাস্তব

  • ডঃ শমিকা রবি

এই বিশেষজ্ঞ দলটি ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্যগুলি সহ সারা দেশে অনুপ্রবেশের ফলে যে জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের ঘটনা ঘটছে, তার ওপর বিশদ এবং গভীর সমীক্ষা চালাবে।

কেন এই পদক্ষেপ? সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলিতে জনসংখ্যার বিন্যাসে দ্রুত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ডেমোগ্রাফি বা জনতাত্ত্বিক চরিত্র বদলে দেওয়া হচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কমিটির লক্ষ্য হলো: ১. অনুপ্রবেশের প্রকৃত কারণ ও এর নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করা। ২. জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণ করা। ৩. এই সমস্যা মোকাবিলায় সরকারকে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নীতি প্রণয়নে সাহায্য করা।

শাহের মেগা অভিযান এই উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি গঠনের মাধ্যমে অমিত শাহ কার্যত দেশজুড়ে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে এক মেগা অভিযানের সূচনা করলেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই সরকার অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু করবে।

সীমান্ত সুরক্ষা থেকে শুরু করে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখতে সরকারের এই নতুন উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশবাসী।