তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ! জুলিয়াস সিজারের প্রসঙ্গ টেনে কার দিকে ইঙ্গিত করলেন সুখেন্দুশেখর?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই শাসকদলের অন্দরে অসন্তোষের আঁচ স্পষ্ট। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পর এবার তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের একটি ইঙ্গিতবাহী সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের ঐতিহাসিক পরিণতির কথা উল্লেখ করে তিনি কার্যত দলের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিই তীব্র কটাক্ষ করলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ঠিক কী লিখেছেন সাংসদ? মঙ্গলবার সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে সুখেন্দুশেখর লেখেন, “খ্রিস্টপূর্ব ৪৪-এ, মার্চের আইডসে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারকে সেনেটে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। মে মাসের আইডসের আগেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যের পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে তৃণমূলের সাম্প্রতিক শোচনীয় পরাজয়কে জনগণের রায় হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন।

বিশ্লেষণ ও জল্পনা: সুখেন্দুশেখরের এই পোস্টটি বেশ কয়েকটি কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:

  • তুল্যমূল্য বিচার: মাত্র দু’বছর আগে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল ২৯টি আসনে জয়ী হয়েছিল। সেখান থেকে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই বিপর্যয় কীভাবে হলো, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

  • বিদ্রোহের সুর: এর আগেও আরজি কর কাণ্ডের সময় আর পাঁচজন তৃণমূল নেতার মতো চুপ না থেকে সরাসরি ‘রিক্লেম দ্য নাইট’-এ যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তখন থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছে বলে চর্চা ছিল।

  • জুলিয়াস সিজার প্রসঙ্গ: সিজারকে যেভাবে তাঁর ঘনিষ্ঠরাই সেনেটে হত্যা করেছিল, সেই উপমা ব্যবহার করে সুখেন্দুশেখর কি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা বিশ্বাসঘাতকতাকেই ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন? তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে তীব্র জল্পনা।

দলের অন্দরে অস্বস্তি তৃণমূলের এই প্রবীণ নেতা বরাবরই নিজস্ব মতামতের জন্য পরিচিত। তাঁর এই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টটি তৃণমূলের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফলের পর দলের ভেতরে যে ক্ষোভ জমা হচ্ছে, সুখেন্দুশেখরের এই পোস্ট তারই বহিঃপ্রকাশ।

দলীয় লাইন উপেক্ষা করে বারবার নিজের অবস্থানে অনড় থাকা এই সাংসদ কি এবার বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপের পথে? এই পোস্ট ঘিরে বাড়ছে রহস্য।