স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মন গ্রেপ্তার, ‘ফাঁসি চাই’, দাবি মমতার

স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনে অভিযুক্ত রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনের গ্রেপ্তারির খবর পৌঁছাতেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া মমতা কামিল্যার মনে। স্বামীর মৃত্যুর ন্যায়বিচারের আশায় লড়াই করা মমতা যেমন খুশি, তেমনই কিছুটা শঙ্কিত। তবে নতুন সরকারের ওপর তাঁর আস্থা অটুট।
গ্রেপ্তারের নেপথ্যে অন্য কাহিনী: জানা গেছে, স্বপন কামিল্যা খুনের মামলায় অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনকে ইকো পার্ক থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিযোগে। নিউ টাউনের একটি বারে মদ্যপান করে গাড়ি চালানোর সময় সিটি সেন্টার ২-এর সামনে এক পথচারীকে ধাক্কা দেন তিনি। স্থানীয় মানুষজন তাঁকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। খুনের মামলায় অভিযুক্ত হলেও, আপাতত ট্র্যাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে বারাসত আদালতে পেশ করা হয়েছে।
‘ওকে ছাড়া হবে না, ফাঁসি দিন’: এই খবর শোনার পর প্রথমটায় ভেঙে পড়লেও, পরক্ষণেই দৃঢ়কণ্ঠে মমতা বলেন, “আমি জানি, প্রশান্তই আমার স্বামীকে খুন করেছে। নতুন রাজ্য সরকারের ওপর আমার অগাধ আস্থা আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আমার একটাই আর্জি, এই খুনিকে কোনোভাবেই ছাড়বেন না। আমি ওর ফাঁসি চাই।”
এক কঠিন জীবনসংগ্রাম: পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুরের বাসিন্দা স্বপন কামিল্যা কর্মসূত্রে সল্টলেকের দত্তাবাদে থাকতেন। গত বছরের ২৮ অক্টোবর বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে তাঁকে অপহরণ ও নির্মমভাবে খুনের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকে পরিবার নিয়ে চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্ত্রী মমতা। শ্বশুর-শাশুড়ি ও দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতে এখন লোকের বাড়িতে কাজ করছেন তিনি। মমতা বলেন, “ছেলেমেয়ের পড়া আর পেটের ভাতের জোগান দিতে কী যে লড়াই করছি, তা শুধু ভগবান জানে।”
বিচারের দীর্ঘ পথ: অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এতদিন তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন প্রশান্ত বর্মন। সুপ্রিম কোর্টের আত্মসমর্পণের নির্দেশও অমান্য করে গত পাঁচ মাস তিনি ‘নিখোঁজ’ ছিলেন। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ার পর এখন পুরো পরিবারের চোখ এখন আদালতের রায়ের দিকে।
অভিযুক্তের গ্রেপ্তারিতে ন্যায়বিচারের আশা জোরালো হলেও, মমতার একটাই দাবি—খুনের শাস্তি যেন দৃষ্টান্তমূলক হয়। যে অপরাধীর বিরুদ্ধে এতদিন পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ছিল, নতুন সরকারের জমানায় তিনি শেষ পর্যন্ত কঠোরতম শাস্তির মুখোমুখি হন কি না, সেটাই এখন দেখার।