রাজ্যে মদের লাইসেন্সে বড় বদল: স্কুল-মন্দিরের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নিষিদ্ধ মদের দোকান! ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই নীতিগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে প্রশাসন। এবার মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে বড়সড় নিয়ম পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নদিয়ার কল্যাণীতে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখন থেকে রাজ্যে আর যত্রতত্র মদের দোকান খোলার লাইসেন্স দেওয়া হবে না।

কী কী পরিবর্তন আসছে? মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো এবার পশ্চিমবঙ্গেও মদের দোকানের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর দূরত্ববিধি মানা হবে। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী:

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) এবং ধর্মীয় স্থানের (মন্দির বা অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান) অন্তত ১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া হবে না।

  • প্রাক্তন সরকারের মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়ার নীতি থেকে সরে এসে নতুন সরকার সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নীতি মেনে চলবে।

মদ কি নিষিদ্ধ হচ্ছে? সম্প্রতি রাজ্যে মদ নিষিদ্ধ হওয়া নিয়ে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, এদিন সেই বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি মুখ্যমন্ত্রী। ফলে রাজ্যে মদ নিষিদ্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তবে মদ বিক্রি ও বিপণনের ওপর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ আনতে চলেছে বর্তমান বিজেপি সরকার।

সড়কের ধারের দোকান নিয়ে উদ্বেগ: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও জাতীয় ও রাজ্য সড়কের ধারে রমরমিয়ে চলছে মদের দোকান ও পানশালা। পথ দুর্ঘটনা রোধে এই দোকানগুলো বন্ধ করার দাবিতে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে দাবি রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী এদিন নতুন নীতির ঘোষণা করায় রাজ্যজুড়ে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকানগুলোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস হতে পারে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, আগের তৃণমূল সরকারের আমলে মদের ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব এবং যত্রতত্র লাইসেন্স দেওয়ার নীতি নিয়ে বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো বরাবরই সরব ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর সেই নীতি পরিবর্তনকে মুখ্যমন্ত্রী ‘নতুন সরকার অন্যভাবে চলার’ বার্তা হিসেবেই দেখছেন।