কোয়াড বৈঠক ঘিরে চিনের চরম অস্বস্তি! ‘ছোট গোষ্ঠী’ নিয়ে বেজিংয়ের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব ভারতের?

দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াড (Quad) গোষ্ঠীর বৈঠকে ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। পূর্ব ও দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের একতরফা আধিপত্য এবং সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কোয়াডের কড়া অবস্থান নিয়ে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ।
যৌথ বিবৃতিতে উদ্বেগের পাহাড়: কোয়াডভুক্ত চার দেশের বিদেশমন্ত্রীরা সাম্প্রতিক বৈঠকে ওই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে:
-
সমুদ্রসীমায় জাহাজ ও বিমান চলাচলে চিনের নিয়মিত বাধা সৃষ্টি।
-
বিতর্কিত এলাকাগুলোতে সামরিকীকরণ এবং বিপজ্জনক মহড়া।
-
জলকামান ও ফ্লেয়ার ব্যবহারের মতো উসকানিমূলক পদক্ষেপ। এই সব ঘটনাকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে কোয়াড।
বেজিংয়ের হুঁশিয়ারি: কোয়াডের এই যৌথ বিবৃতির পর স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ চিন। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং একটি সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “আমরা কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে তৈরি ‘ছোট গোষ্ঠী’ বা গোষ্ঠীগত সংঘাতের বিরোধী। দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা হওয়া উচিত আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য, কাউকে নিশানা করে নয়।”
ভারতের জোরালো জবাব: চিনের ‘ছোট গোষ্ঠী’ বা ‘সংঘাত’ তৈরির অভিযোগকে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব নাগরাজ নাইডু স্পষ্ট করেছেন যে, কোয়াডের লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরোধিতা করা নয়, বরং বাস্তবসম্মত উন্নয়ন।
-
উন্নয়নই আসল লক্ষ্য: ২০০৪ সাল থেকে সক্রিয় এই প্ল্যাটফর্মটি কোভিড মহামারীর সময়ে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে পূর্ব আফ্রিকা ও ফিজিতে সৌরশক্তি ও বন্দর পরিকাঠামোর উন্নয়নে কাজ করছে।
-
স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী: ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, কোয়াডের প্রতিটি পদক্ষেপ এবং নথি জনসমক্ষে উন্মুক্ত। উন্নয়নমূলক কর্মসূচির পরিধি বাড়াতেই এই চার দেশ একজোট হয়েছে।
ভবিষ্যতের পথে কোয়াড: সাম্প্রতিক এই বৈঠকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোতে চার দেশের সহযোগিতা আরও মজবুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চিনের হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব না দিয়ে ভারত ও তার মিত্ররা এখন পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার দিকেই বেশি মনোযোগী।