সোনাঝুরি হাটে কড়া পদক্ষেপ, বুলডোজার দিয়ে ‘বেআইনি’ হাটে রাশ টানল বন দফতর!

শহর কলকাতার পর এবার বুলডোজারের গর্জন শোনা গেল শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরির জঙ্গলে। জঙ্গল এবং পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিল বন দফতর। সোনাঝুরি হস্তশিল্পীদের হাট সংলগ্ন এলাকায় বুলডোজার নামিয়ে কেটে ফেলা হলো যাতায়াতের রাস্তা। মূলত পর্যটকদের চারচাকা গাড়ি প্রবেশ রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ তকমা প্রাপ্ত শান্তিনিকেতনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সোনাঝুরির খোয়াই হাট। তবে এই হাটের পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন তুলছিলেন পরিবেশকর্মীরা। অভিযোগ ছিল, বন দফতরের জমিতে কোনোভাবেই ব্যবসায়িক হাট বসার নিয়ম নেই। হাটে চারচাকা গাড়ির অবাধ প্রবেশ এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে জঙ্গলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এমনকি, জঙ্গলের গাছপালা ধ্বংস করে রিসর্টের বিজ্ঞাপনও বসানো হয়েছিল। এই মর্মে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা করেছিলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই এবার বন দফতরের এমন সক্রিয় ভূমিকা নজরে এল।
যা যা সরানো হলো: সোনাঝুরি হাটের ভেতরে গাড়ি ঢোকার সমস্ত পথ বুলডোজার দিয়ে মাটি কেটে বন্ধ করে দিয়েছে বন দফতর। এছাড়াও, জঙ্গলের ভেতরে অবৈধভাবে লাগানো রিসর্টের সাইনবোর্ডগুলিও উপড়ে ফেলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বন দফতরের কোনো উচ্চপদস্থ আধিকারিকের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।
ঐতিহ্য বনাম বেআইনি দখল: একসময় ২০০০ সালের দিকে প্রয়াত আশ্রমিক শ্যামলী খাস্তগীরের উদ্যোগে এই জঙ্গলে আদিবাসী ও বিশ্বভারতীর পড়ুয়াদের তৈরি সামগ্রী নিয়ে কেবল শনিবারের হাট বসত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে হাটের পরিধি যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক কম নয়। অভিযোগ, সপ্তাহে একদিনের পরিবর্তে প্রতিদিন হাট বসতে শুরু করে এবং আদিবাসীদের বদলে বহিরাগত ব্যবসায়ীরাই দখল নেয় হাটের। হাটের থেকে সংগৃহীত অর্থের কোনো হিসেব বা সরকারি কোষাগারে জমার তথ্য না থাকায় একে ‘দুর্নীতির আখড়া’ বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়দের একাংশ।
পরিবেশবিদদের মতে, প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য বাঁচাতে এই কড়া পদক্ষেপ ছিল সময়ের দাবি। তবে বন দফতরের এই বুলডোজার অভিযান ভবিষ্যতে সোনাঝুরি হাটের ভবিষ্যৎ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।