ইথানলের যুগে বিপ্লব! ফ্লেক্স-ফুয়েল SUV আনতে চলেছে টয়োটা, জেনে নিন বিস্তারিত

ভারতে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে সরকার পেট্রোলে ইথানল মেশানোর পরিমাণ ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলোও তাদের প্রযুক্তি বদলে ফেলছে। এবার মারুতি সুজুকির হাত ধরে ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির পথে পা বাড়াল টয়োটা। জানা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই টয়োটা তাদের জনপ্রিয় কমপ্যাক্ট SUV ‘টাইসর’-এর একটি ফ্লেক্স-ফুয়েল ভার্সন বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

টাইসরের নতুন রূপ
মারুতি সুজুকি ও টয়োটার পার্টনারশিপের ফলস্বরূপ মারুতির ‘ফ্রঙ্কস’ (Fronx)-এর আদলে তৈরি এই টাইসরের ফ্লেক্স-ফুয়েল মডেলে থাকবে কিছু চমকপ্রদ পরিবর্তন। গাড়ির মূল ডিজাইনে বড় কোনো বদল না থাকলেও, এটি যে E85 জ্বালানিতে চলতে সক্ষম, তা বোঝাতে গাড়িতে বিশেষ ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ ব্যাজ ব্যবহার করা হবে। ২০২৪ সালে লঞ্চের পর থেকে টাইসরে বড় কোনো আপডেট আসেনি, তাই ফেসলিফ্ট ভার্সন হিসেবেই গাড়িটিকে বাজারে আনার সম্ভাবনা বেশি।

ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স
সূত্রের খবর, এই মডেলে ১.২ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড (NA) পেট্রোল ইঞ্জিন দেওয়া হতে পারে, যা ৮৯ bhp থেকে ১১৩ bhp পর্যন্ত পাওয়ার তৈরি করবে। ট্রান্সমিশনের জন্য থাকবে ৫-স্পিড ম্যানুয়াল এবং ৫-স্পিড AMT-এর বিকল্প। তবে টয়োটা তাদের ১.০ লিটারের টার্বো ইঞ্জিনে এই প্রযুক্তি যুক্ত করবে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।

ভবিষ্যতের জন্য কতটা কার্যকরী?
বর্তমানে অনেকেই পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ বাড়লে তা গাড়ির ইঞ্জিনের ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চিন্তিত। টাইসরের এই নতুন মডেল তাদের জন্য আদর্শ হতে পারে। এটি E25, E30 এমনকি E85 জ্বালানিও অনায়াসেই সাপোর্ট করবে। ফলে সরকারের ইথানল ব্লেন্ডিং পলিসির সঙ্গে এই গাড়িটি পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দাম ও লঞ্চের সময়সীমা
গাড়ির দামের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা না থাকলেও, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে মনে করা হচ্ছে, সাধারণ পেট্রোল মডেলের তুলনায় ফ্লেক্স-ফুয়েল ভার্সনের দাম ৭৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেশি হতে পারে। ২০২৭ সালের শেষের দিকে গাড়িটি ভারতীয় বাজারে লঞ্চ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।