‘শুভেন্দু ডাকলে যাব’, দলের হারের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে বিস্ফোরক মানসরঞ্জন ভূঁইয়া

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর এতদিন নীরব থাকার পর এবার মুখ খুললেন প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভূঁইয়া। সবং কেন্দ্রে পরাজিত হওয়ার পর মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দলের ব্যর্থতা নিয়ে আত্মসমালোচনার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিলেন।

অভিষেককে আড়াল, ‘কালেক্টিভ’ দায়বদ্ধতার বার্তা
ভরাডুবির জন্য দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করার প্রবণতা দেখা গেলেও, মানসরঞ্জন ভূঁইয়া সেই মতের বিরোধিতা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূলের কোনো সিদ্ধান্তই এককভাবে নেওয়া হয় না। তাঁর কথায়, “অভিষেক কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে? কখনওই নয়। কোর কমিটির উপরেও নয়। হার হলে একজনকেই দায়ী করা আর জয়ের কৃতিত্ব অন্য কাউকে দেওয়া—এই মানসিকতা থেকে দলকে বেরোতে হবে।” অর্থাৎ, হারের দায় যে পুরো দলের ‘কালেক্টিভ’ বা সমষ্টিগত, তা তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন।

শুভেন্দুর প্রশংসায় আবেগপ্রবণ মানস
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ উঠতেই মানসের কণ্ঠে শোনা গেল নতুন সুর। তিনি বলেন, “আমি মেদিনীপুরের সন্তান, শুভেন্দুও তাই। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখে আমি গর্বিত।” পাশাপাশি তিনি শুভেন্দুর উদ্দেশ্যে আবেদন জানান, তিনি যেন শুধু মেদিনীপুর নয়, গোটা বাংলার মানুষের চোখের জল মোছান এবং শান্তি ফেরান। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি, শুভেন্দু অধিকারীর ডাক পেলে তিনি দেখা করতে যাবেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে প্রবীণ এই নেতা জানান, “উনি যদি ডাকেন, আমি একশো বার যাব।”

রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের গুঞ্জন
মানসরঞ্জন ভূঁইয়ার এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে আসা এই অভিজ্ঞ রাজনীতিকের মুখে এহেন কথা, তাও আবার শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি এমন ইতিবাচক মনোভাব, পরিবর্তনের হাওয়াকেই যেন ইঙ্গিত করছে। যদিও তিনি সরাসরি দলত্যাগের কথা বলেননি, তবে তাঁর এই ‘অকপট’ স্বীকারোক্তি তৃণমূলের অন্দরের গভীর ক্ষোভ এবং আসন্ন অস্থিরতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়েও তিনি পরোক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের ফলাফলের পর দলের ভেতরে যে ভাঙনের সুর স্পষ্ট হচ্ছিল, মানসরঞ্জন ভূঁইয়ার এই মন্তব্য তাকে আরও জোরালো করল।