ভোট-পরবর্তী হিংসার কাঁটা, গ্রেপ্তার অনুব্রত-ঘনিষ্ঠ দাপুটে তৃণমূল নেতা

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই যেন আইন সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভোট-পরবর্তী হিংসার পুরনো মামলাগুলিতে। এবার এই সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার করা হলো সাঁইথিয়া পুরসভা এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা বাপ্পাদিত্য দাসকে। বাপ্পাদিত্য সাঁইথিয়া পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রূপা দাসের স্বামী। সোমবার সিউড়ি বাসস্ট্যান্ড চত্বর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কী অভিযোগ? ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর সাঁইথিয়া এলাকায় বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, মারধর এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগে সাঁইথিয়া থানায় মামলা দায়ের হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, তৎকালীন শাসকদলের দাপটে দীর্ঘদিন ধরে সেই মামলার কোনো সুরাহা হয়নি। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর ভোট-পরবর্তী হিংসার সেই পুরনো তদন্তগুলি পুনরায় শুরু হয়েছে। সোমবার সিউড়ি থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর বাপ্পাদিত্যকে সাঁইথিয়া থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এলাকার ‘ত্রাস’ স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে কাউন্সিলর রূপা দাস হলেও, এলাকার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন বাপ্পাদিত্য দাসই। অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের নেতা হিসেবে পরিচিত বাপ্পাদিত্য এলাকায় ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে দাবি বিরোধীদের। বিভিন্ন সময়ে বিরোধী কর্মীদের হুমকি ও ভয় দেখানোর মতো একাধিক অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবিও ভাইরাল হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এই গ্রেপ্তারির প্রেক্ষিতে বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই গ্রেপ্তার। এটিই প্রমাণ করে যে, রাজ্যে এখন আর শাসকের আইন নেই, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “শুনেছি ২০২১-এর কোনো একটি পুরনো মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।”

উল্লেখ্য, এর আগে বীরভূম ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বিভিন্ন পুরনো হিংসার ঘটনার তদন্তে পুলিশ তৎপর হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।