১০০ দিনের কাজে ফিরছে নবান্ন! তবে দুই জেলার নাম থাকছে বাদ

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনিক সংস্কারে একের পর এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে রাজ্যের সমস্ত দফতরের সচিবদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি নির্দেশ দিলেন, রাজ্যে দ্রুত শুরু করতে হবে ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প’ বা ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প। তবে এই প্রকল্প চালু করার ক্ষেত্রে কিছু স্পর্শকাতর জেলায় বিশেষ সতর্কতার পথ বেছে নিয়েছে রাজ্য সরকার।
কেন বাদ দুই জেলা? প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আপাতত দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ জেলা বাদে রাজ্যের বাকি সব জেলাতেই এই প্রকল্প দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত সরকারের আমলে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে এই দুই জেলা থেকেই সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিশদ পর্যালোচনার কাজ চলায়, আপাতত ওই দুই জেলায় প্রকল্পটি চালু করা হচ্ছে না।
তদন্ত ও আইনি প্রেক্ষাপট পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ১০০ দিনের কাজে ব্যাপক আর্থিক তছরুপ ও দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে প্রকল্পের মজুরি না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ খেতমজুর সমিতি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। একইভাবে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীও এই প্রকল্পে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। ক্ষমতার পালাবদলের পর, নতুন সরকার এই প্রকল্পের কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে পুনরায় শুরু করার লক্ষ্য নিয়েছে।
নতুন সরকারের লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এই প্রকল্প পুনরায় চালু হলে রাজ্যের গ্রামীণ ও প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, যা রাজ্যের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সাহায্য করবে।
এদিনের বৈঠকে সচিবদের মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, সরকারি প্রকল্পের কাজে ‘অনুপ্রেরণা’-র চেয়েও বড় হলো ‘দায়বদ্ধতা’। স্বচ্ছতা বজায় রেখে এবং দুর্নীতির মোকাবিলা করেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে চায় বর্তমান প্রশাসন।