প্রেমের পথে কাঁটা স্বামী! প্রেমিকের সাহায্য নিয়ে খুন করে কৃষিজমিতে দেহ পুঁতলেন নার্স স্ত্রী

পরকীয়ার সম্পর্ককে স্থায়ী রূপ দিতে স্বামীকেই সরিয়ে দিলেন স্ত্রী! তেলেঙ্গানায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারা। স্বামীর নিথর দেহ গুম করতে জেসিবি মেশিন ব্যবহার করে কৃষিজমিতে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ স্ত্রীর বিরুদ্ধেই। ঘটনার ৯ দিন পর অভিযুক্ত স্ত্রী কল্পনা ও তাঁর প্রেমিক চিন্টুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কী ঘটেছিল ঘটনার রাতে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কল্পনা পেশায় নার্স এবং তাঁর স্বামী মুথয়ম রেড্ডি গ্রামের গভীর পাতকুয়োর মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। বিয়ের পর থেকে সুখেই কাটছিল তাঁদের সংসার, দম্পতির দুটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। কিন্তু কয়েক মাস আগে গাইনি পান্ডারি ওরফে চিন্টু নামক এক ব্যক্তির সঙ্গে কল্পনার পরিচয় হয় এবং তাঁরা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। স্বামী মুথয়ম এই সম্পর্কের কথা জেনে ফেলায় তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। পুলিশের দাবি, মুথয়ম তাঁদের পরকীয়া সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন, আর সেই কারণেই তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন কল্পনা ও চিন্টু।
নিখোঁজ হওয়ার নাটক ও পুলিশের তদন্ত
গত ১৮ মে মুথয়ম নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে কল্পনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে কল্পনার কল ডেটা রেকর্ড খতিয়ে দেখে এবং তাঁকে ও তাঁর প্রেমিক চিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। জেরার মুখে ভেঙে পড়ে অভিযুক্তরা খুনের কথা স্বীকার করে। ধৃতরা পুলিশকে জানায়, এলগোই গ্রামের উপকণ্ঠে মুথয়মকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য জেসিবি মেশিন ব্যবহার করে একটি কৃষিজমিতে গভীর গর্ত খুঁড়ে দেহটি পুঁতে দেওয়া হয়। সন্দেহ এড়াতে মাটি ও পাথর দিয়ে গর্তটি ঢেকে দেওয়া হয় বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে।
তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ডেপুটি সুপার অব পুলিশ ভেঙ্কট রেড্ডি জানিয়েছেন, “ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি কবর থেকে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।” ২০১২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর ১০ বছরের সংসার জীবনে কেন এমন চরম পথ বেছে নিলেন কল্পনা, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকাবাসী।