‘নারীর সম্মান কি এভাবেই ধুলোয় মিশবে?’ উৎসবের আড়ালে অশ্লীলতার ভিডিও দেখে ক্ষুব্ধ সোশ্যাল মিডিয়া

উৎসবের আবহে আনন্দের আড়ালে এ কেমন বিকৃত মানসিকতা? বিহারের মুজফফরপুর থেকে প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিও ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন সমালোচনার ঝড়। একটি বিয়ের শোভাযাত্রায় প্রকাশ্য রাস্তায় ডিজে গাড়ির ট্রলিতে সাঁটানো মহিলাদের ছবির পোস্টারে এক মাঝবয়সী ব্যক্তিকে অশ্লীলভাবে চুমু খেতে দেখা গেছে। সবথেকে আশ্চর্যের এবং ভয়ের বিষয়, এই ঘটনার সময় উপস্থিত ভিড় বা শোভাযাত্রায় সামিল মানুষজন তাকে বাধা দেওয়ার পরিবর্তে পুরো বিষয়টিকে রীতিমতো উপভোগ করছেন।

কী ঘটেছে মুজফফরপুরে?
স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে মুজফফরপুরের গাইঘাট থানা এলাকার মৈথী চকের কাছে। বিয়ের শোভাযাত্রা চলাকালীন যখন উচ্চৈঃস্বরে ডিজে গান বাজছে, তখন ওই ব্যক্তি কোনো এক ভ্রুক্ষেপ ছাড়াই গাড়িতে থাকা পোস্টারের মহিলার ছবিতে বারবার আপত্তিকরভাবে চুমু খেতে থাকেন। ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তির এই জঘন্য আচরণ দেখে আশেপাশে থাকা এক যুবক তাকে শুধু উৎসাহই দিচ্ছে না, বরং দূর থেকে ইশারা করে হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে।

নেটপাড়ায় তীব্র নিন্দার ঝড়
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মধ্যে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অধিকাংশ মানুষের মন্তব্য, এটি নিছক কোনো ‘মজা’ নয়, বরং মানসিক বিকৃতির চূড়ান্ত নিদর্শন। এক নেটিজেন লিখেছেন, “সবথেকে ভয়াবহ বিষয় হলো, ওই ভিড়ের মধ্যে থাকা কেউ তাকে থামালো না, উল্টে উৎসাহ দিল। সমাজের এই অংশটি নারীদের প্রতি কতখানি অসম্মান পোষণ করে, তা এই দৃশ্যেই স্পষ্ট।”

আরেকজন ব্যবহারকারী আক্ষেপ করে লিখেছেন, “এভাবেই সমাজে নারীদের পণ্য হিসেবে দেখার বিষয়টি ‘স্বাভাবিক’ বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” উৎসবের আনন্দের আড়ালে নারীর প্রতি এই অবমাননাকর আচরণকে অনেকেই ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রশ্নের মুখে সামাজিক দায়বদ্ধতা
ডিজে সংস্কৃতি বা উৎসবের নামে প্রকাশ্য রাস্তায় এ ধরনের অভদ্রতা নতুন কিছু নয়, তবে জনসমক্ষে নারীর ছবির সঙ্গে এমন অশ্লীল আচরণের ভিডিওটি সামাজিক অবক্ষয়ের এক করুণ ছবি তুলে ধরেছে। উৎসবের সংস্কৃতির আড়ালে এই ধরনের বিকৃত বিনোদন কেন এবং কীভাবে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে জায়গা পায়, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন সমাজ সচেতন মানুষজন।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এই ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। তবে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় স্তরেও ক্ষোভ দানা বাঁধছে। অপরাধীর পরিচয় শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

উপসংহার: উৎসবের নামে নারীর প্রতি এই ধরণের বিকৃত মানসিকতাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ঠিক কতটা কঠোর হওয়া উচিত বলে মনে করেন? আপনার মতামত জানান আমাদের কমেন্ট বক্সে।