ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত নদিয়া! কল্যাণীতে তৃণমূল সমর্থক যুবকের মৃত্যু, কাঠগড়ায় বিজেপি

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরও রাজ্যে অব্যাহত রক্তক্ষয়ী হিংসা। এবার ভোট-পরবর্তী হিংসার বলি হলেন নদিয়ার গয়েশপুরের এক যুবক। পরিবারের অভিযোগ, তৃণমূল সমর্থক হওয়ার অপরাধেই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করেছে ২৬ বছরের পাপাই সরকারকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কল্যাণী জুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা।
বাড়ি ফেরার পরেই বিপত্তি
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট গণনার পর থেকেই গয়েশপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পাপাইকে লাগাতার হুমকি দিচ্ছিল বহিরাগত দুষ্কৃতীরা। প্রাণভয়ে তিনি এলাকাছাড়া ছিলেন। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে মনে করে গত ২০ মে তিনি বাড়িতে ফেরেন। কিন্তু ঘরে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিখোঁজ হয়ে যান পাপাই। এরপরই তাঁকে বাড়ির অদূরে রাস্তার পাশে রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। শরীরে ছিল একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন।
হাসপাতালের দৌড় ও শেষ পরিণতি
রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে জেলা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে এনআরএস মেডিকেল কলেজ, এরপর একটি বেসরকারি নার্সিংহোম হয়ে শেষমেশ কল্যাণীর এইমস (AIIMS)-এ নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর এইমসে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।
তৃণমূল বনাম বিজেপি রাজনৈতিক তরজা
মৃতের বাবা সন্দীপ সরকারের অভিযোগ, “আমরা তৃণমূল করি বলেই ভোটের পর থেকে বিজেপি ঘনিষ্ঠরা আমাদের পরিবারকে টার্গেট করেছিল। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, সুপরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে।” কল্যাণী থানায় এই মর্মে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্বের দাবি, এটি নিছকই একটি পথ দুর্ঘটনা। রাজনীতির সাথে এর কোনো যোগ নেই। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে। আমরাও চাই দোষীরা শাস্তি পাক, কিন্তু মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করা কাম্য নয়।”
তদন্তে পুলিশ
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে কল্যাণী থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। এই ঘটনায় এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অশান্তি না ছড়ায়।