‘দিদির অন্ধ স্নেহেই সর্বনাশ!’ অভিষেককে বেনজির আক্রমণ, উত্তরাধিকার নিয়ে বড় দাবি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে কার্যত আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়লেন এককালের ‘হেভিওয়েট’ তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জেলবন্দি দশা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রণকৌশল এবং অভিষেকের নেতৃত্বকে সরাসরি নিশানা করে যে মন্তব্য তিনি করলেন, তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজনৈতিক মহল।

নেত্রীর ‘দুর্বলতা’ই হারের কারণ:
নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে পার্থর সাফ কথা, দলের হারের জন্য সরাসরি দায়ী তৃণমূল সুপ্রিমোর ‘দুর্বলতা’। তিনি বলেন, “উনি বলছেন উঠে দাঁড়াও, সবাই ভালো খেটেছে—এসব বলে সাফল্যের গান গাওয়ার সময় নয়। ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে খুশি হওয়ার কিছু নেই, আসলে আমাদের ক্ষয় হয়েছে।” এখানেই না থেমে পার্থর পরামর্শ, “শিবসেনা বা স্টালিন যদি বুঝতে পারে, তবে দিদিরও এবার নিজের উত্তরাধিকার খোঁজা জরুরি।”

অভিষেকের ‘স্টাইল’ ও ‘অন্ধ স্নেহ’ নিয়ে ক্ষোভ:
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে পার্থর তোপ, “দিদির অন্ধ স্নেহ আর অন্ধ ভালোবাসার কারণেই মুকুল বা শুভেন্দুর মতো হেভিওয়েট নেতাদের দল ছাড়তে হলো। একজনকে ধরে রাখার জন্য সবাইকে চলে যেতে দেওয়া হলো।” তিনি আরও যোগ করেন, দক্ষিণ ভারতীয় কায়দায় গাড়ির ছাদে উঠে হাত নাড়ানো কিংবা ভাষার ব্যবহার—যা মমতার শোভা পায়, তা অন্যদের ক্ষেত্রে একেবারেই ‘বেমানান’। তাঁর কথায়, “মমতার বিকল্প একমাত্র মমতাই, যা তৃণমূল আজও তৈরি করতে পারেনি।”

কোণঠাসা পুরনো কর্মীরা:
নিজের ও দলের পুরনো কর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পার্থর আক্ষেপ, “আমাকে জেল খাটানো হচ্ছে, দলের কর্মীদের বলা হচ্ছে আমার সঙ্গে দেখা না করতে। আরাবুল বা শওকতের মতো নেতাদের কোণঠাসা করা হচ্ছে। আমি যে জেলাগুলো দেখতাম, আজ সেগুলো শুয়ে পড়েছে। ঝাড়গ্রাম, কোচবিহার, নদিয়া—কোথাও আমাদের অস্তিত্ব নেই। মুকুল থেকে শুরু হওয়া এই পতনের ধারা এখন আমার পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে।”

জেলবন্দি অবস্থাতেও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূলের অন্দরে যে নতুন করে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিরোধী দলগুলো যখন এই মন্তব্যকে লুফে নিচ্ছে, তখন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব এই অভিযোগের কী জবাব দেয়, এখন সেটাই দেখার।