‘নীরব ঘাতক’ রুখতে বড় পদক্ষেপ! রাজ্যে বিনামূল্যে মিলবে সার্ভিক্যাল ক্যানসারের টিকা

মহিলাদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ও সাহসী পদক্ষেপ নিল রাজ্যের নতুন সরকার। আগামী ৩০ মে থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে কিশোরীদের সার্ভিক্যাল ক্যানসার বা জরায়ু-মুখের ক্যানসার প্রতিরোধের বিশেষ টিকাকরণ কর্মসূচি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের ৭ লক্ষেরও বেশি কিশোরীকে বিনামূল্যে এই জীবনদায়ী টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
কেন এই টিকা জরুরি?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, জরায়ুর নিম্ন অংশে হওয়া এই ক্যানসারের প্রধান কারণ হলো ‘হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস’ (HPV)। বিশেষজ্ঞরা একে ‘নীরব ঘাতক’ বলে অভিহিত করেন, কারণ রোগের প্রাথমিক অবস্থায় কোনো উপসর্গই বোঝা যায় না। যখন লক্ষণ প্রকাশ পায়, ততক্ষণে রোগ অনেক দূর এগিয়ে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, মহিলাদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে এই মারণ রোগ। সঠিক সময়ে ভ্যাকসিনেশনের অভাবই এর প্রধান কারণ।
WHO-এর পরামর্শ ও আমাদের সতর্কতা:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা স্পষ্ট—৯ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে, অর্থাৎ যৌন জীবন শুরু হওয়ার আগে যদি কিশোরীদের এই এইচপিভি (HPV) টিকা দেওয়া যায়, তবে ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে এই রোগে মৃত্যুর ৯০ শতাংশই ঘটে ভারতসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। সেই পরিসংখ্যান মাথায় রেখেই রাজ্য সরকার এই টিকাকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে সুবিধা:
যেকোনো সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এই টিকা পাওয়ার সুব্যবস্থা করছে স্বাস্থ্য দপ্তর। প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনার জন্য দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে ৩০ মে। ওইদিন বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে উপস্থিত থেকে এই টিকাকরণ প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করবেন।
রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে এই জীবনদায়ী ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। সরকারের এই নজিরবিহীন স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক উদ্যোগ আগামী দিনে রাজ্যের নারীদের স্বাস্থ্যমানচিত্রে বড়সড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন চিকিৎসকমহল।