স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে আর চিন্তা নেই! এবার জাতীয় স্তরের চিকিৎসা পরিষেবা ঘরে ঘরে, ঘোষণা শুভেন্দুর

রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে মরিয়া বর্তমান সরকার। শনিবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন। যার মধ্যে অন্যতম হলো জুলাই মাস থেকে পশ্চিমবঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সূচনা।
আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাচ্ছেন ৬ কোটিরও বেশি মানুষ:
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের আওতায় থাকা ৬ কোটিরও বেশি উপভোক্তাকে ধাপে ধাপে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এর জন্য নাম নথিভুক্তিকরণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, যারা আগে স্বাস্থ্যসাথীর তালিকায় ছিলেন না, তারাও নতুন করে আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কর্মসূত্রে বা পড়াশোনার জন্য ভিনরাজ্যে থাকা বাঙালিরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে এই বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের টিকাকরণ:
কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আগামী ৩০ মে থেকে রাজ্যে শুরু হতে চলেছে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের টিকাকরণ কর্মসূচি। বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী নিজে এর সূচনা করবেন। ১৪-১৫ বছর বয়সি মেয়েদের দেওয়া হবে এই বিশেষ টিকা। একই দিনে রাজ্যের সাংসদ ও বিধায়কদের উপস্থিতিতে শুরু হবে ‘টিবি মুক্ত ভারত’ কর্মশালা।
জনৌষধি কেন্দ্র ও ওষুধের দামে বিশাল ছাড়:
রাজ্যের সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী জনৌষধি কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৭ থেকে বাড়িয়ে ৪৬৯ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্লক থেকে জেলা—সব স্তরের হাসপাতালে মিলবে সুলভ মূল্যের ওষুধ। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “যে ওষুধের দাম ২০০০ টাকা, তা এখান থেকে মাত্র ২০০ টাকায় পাওয়া যাবে। এছাড়া ‘অমৃত প্রকল্প’-এর মাধ্যমে দুরারোগ্য ব্যাধির ওষুধে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে।”
শিশুমৃত্যু ও রোগ নিয়ন্ত্রণে কড়া নজরদারি:
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শিশুমৃত্যুর উচ্চ হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম ও মালদাতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামসহ সাতটি জেলায় কুষ্ঠ রোগ নির্মূল করতে বিশেষ কর্মসূচির ওপর জোর দিচ্ছে বর্তমান সরকার।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সরকারের এই একের পর এক জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে কতটা স্বস্তি নিয়ে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।