দিনে মাত্র ৩৪৪ টাকা! পাকিস্তানের জাতীয় হকি খেলোয়াড়দের জুটছে ভিক্ষার সমান ভাতা

ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কটের ছায়া এবার পাকিস্তানের হকি মাঠে। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আগে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দৈনিক ভাতা কমিয়ে মাত্র ৩.৫ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৪৪ টাকা) করার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তান হকি ফেডারেশনের (PHF) বিরুদ্ধে। দেশের এই চরম দুর্দিনে খেলোয়াড়দের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগে সরব হয়েছেন খোদ ক্রীড়াবিদরা।

টাকার অভাবে ধুঁকছে ফেডারেশন
বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই পাকিস্তান ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কটের মোকাবিলা করছে। বিদেশি ঋণ ও আন্তর্জাতিক সাহায্যের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা পাক সরকারের প্রভাব এবার সরাসরি গিয়ে পড়েছে জাতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে। জানা গেছে, পাকিস্তান হকি ফেডারেশন দীর্ঘ দিন ধরেই খেলোয়াড়দের বকেয়া বেতন মেটাতে ব্যর্থ। এরই মধ্যে সামনে এল নতুন বিতর্ক—প্রশিক্ষণ শিবিরে খেলোয়াড়দের দৈনিক ভাতা ১১ ডলার থেকে কমিয়ে নামিয়ে আনা হয়েছে ৩.৫ ডলারে। যা আন্তর্জাতিক মানের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কাছে চরম অপমানজনক বলে বিবেচিত হচ্ছে।

অনিশ্চয়তার মুখে বিদেশ সফর
আগামী জুন মাসে বেলজিয়াম, স্পেন, ইংল্যান্ড ও ভারতের বিরুদ্ধে FIH প্রো লিগ এবং পরবর্তীতে অগাস্টে নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া FIH বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। ফেডারেশনের দাবি, বিদেশ সফরের জন্য খেলোয়াড় ও আধিকারিকদের দৈনিক ১১০ মার্কিন ডলার ভাতা দেওয়া হবে। কিন্তু খেলোয়াড়দের একাংশের অভিযোগ, “ফেডারেশন অতীতেও এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে কথা রাখেনি। টাকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এই প্রতিশ্রুতিতে আমাদের কোনো আস্থা নেই।”

অধিনায়কহীন দল, ক্ষোভে উত্তাল ড্রেসিংরুম
আর্থিক দৈন্যের পাশাপাশি ফেডারেশনের প্রশাসনিক গাফিলতির নজিরও স্পষ্ট। প্রো লিগের জন্য ২০ সদস্যের দল ঘোষণা করা হলেও, এখনও পর্যন্ত অধিনায়কের নাম চূড়ান্ত করতে পারেনি PHF। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকি খেলোয়াড় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অনুশীলনের সময় মাত্র ১,০০০ পাকিস্তানি রুপি আমাদের মর্যাদার সাথে মানানসই নয়। এটা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা।”

একনজরে পাকিস্তানের স্কোয়াড:
FIH প্রো লিগের জন্য ঘোষিত ২০ সদস্যের দলে রয়েছেন:

গোলরক্ষক: আলী রাজা, ওয়াকার আলী।

ডিফেন্ডার: মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, আবু বকর, আরবাজ আহমেদ, সুফিয়ান খান।

মিডফিল্ডার: আম্মাদ শাকিল, মঈন শাকিল, নাদিম খান, হাম্মাদ আনজুম, জাকারিয়া হায়াত।

ফরোয়ার্ড: আবদুর রহমান, আহমেদ নাদিম, আরশাদ লিয়াকত, হানান শাহিদ, গজানফর আলী, মোহাম্মদ এমমাদ, রানা ওয়ালিদ, আফরাজ খান এবং রানা ওয়াহিদ।

বিশ্বমঞ্চে লড়াইয়ের আগে ফেডারেশনের এই টালবাহানা ও আর্থিক দুর্দশা পাকিস্তানের হকি মিশনের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।