প্রেম করে বিয়ে মেয়ের, বাবার মৃত্যুতেও ফিরলেন না! অমানবিক ঘটনার সাক্ষী মোরাদাবাদ

মেয়ের প্রেম ও পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি বাবা। মানসিক অবসাদে বিষপান করে আত্মঘাতী হলেন তিনি। কিন্তু এই মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেও শেষবার বাবার মুখ দেখা বা শেষকৃত্যে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজনবোধ করেননি ওই তরুণী ও তার স্বামী। উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়।
কী ঘটেছিল সেদিন?
মাজহোলা থানা এলাকার লাইনপার অঞ্চলের বাসিন্দা ওই তরুণীর (২৪) বিয়ের কথাবার্তা চলছিল অন্য জায়গায়। কিন্তু অভিযোগ, গত ১৪ মে পরিবারের অমতেই খালাতো ভাইয়ের ভাগ্নের সঙ্গে প্রেম করে গয়না ও নগদ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তিনি। পরে জানা যায়, ফিরোজাবাদে গিয়ে তারা বিয়ে করেছেন।
মানসিক অবসাদে চরম পদক্ষেপ
মেয়ের এই ‘বিদ্রোহ’ ও সামাজিক অপমানে ভেঙে পড়েন বাবা। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে তিনি খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেন এবং গভীর হতাশায় নিমজ্জিত ছিলেন। এই মানসিক চাপের জেরে এক পর্যায়ে তিনি বিষপান করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
শেষকৃত্যেও অনুপস্থিত মেয়ে
পরিবারের পক্ষ থেকে ওই তরুণীকে বাবার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, তাতেও টলেনি তার মন। স্বামী-স্ত্রী কেউই শেষকৃত্যে উপস্থিত হননি। এই অমানবিকতায় হতবাক স্বজন থেকে এলাকাবাসী। স্থানীয়দের একাংশের মতে, প্রেমের টানে অন্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত বাবার শেষযাত্রাতেও অনুপস্থিত থাকাটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
পুলিশি তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
এদিকে, পুলিশ সূত্রে খবর, তরুণী প্রশাসনকে নিজেদের বিয়ের ছবি পাঠিয়ে দাবি করেছেন যে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজের ইচ্ছাতেই বিয়ে করেছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে পুলিশ দম্পতিকে প্রয়াগরাজে শনাক্ত করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটি দল গঠন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে মাজহোলা থানার পুলিশ।