ধান-গমের দিন শেষ! ১৫ কাঠা জমিতে গাঁদা চাষ করেই মালদহের কৃষকের ‘লক্ষ্মীলাভ’

প্রথাগত চাষবাসের গণ্ডি পেরিয়ে এবার নতুন দিশা। ধান, গম কিংবা কলাইয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গাঁদা ফুল চাষ করে তাক লাগিয়ে দিলেন মালদহের এক কৃষক। ইংরেজবাজার ব্লকের কাজিগ্রাম মধ্যপাড়ার বাসিন্দা পঙ্কজ মণ্ডলের এই উদ্যোগ এখন এলাকার কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কীভাবে শুরু পঙ্কজের এই সাফল্য?
একসময় গতানুগতিক ফসল চাষ করলেও, আধুনিক কৃষি ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পঙ্কজ মণ্ডল ঝুঁকেছেন ফুল চাষের দিকে। নিজের ১৫ কাঠা জমিতে তিনি শুরু করেন গাঁদা ফুলের চাষ। আর বর্তমানে সেই ১৫ কাঠার গাঁদাই বদলে দিয়েছে তাঁর ভাগ্যের চাকা। পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় নিবিড় পরিচর্যা ও নিয়মিত পরিচর্যার সুবাদেই মিলছে দারুণ ফলন।
দিনে ৪০ কেজি ফুল, কত লাভ?
পঙ্কজবাবু জানান, গাঁদা সারা বছরই ফলন দেয়। গাছ লাগানোর অল্প সময়ের মধ্যেই ফুল তোলা শুরু করা যায়। তিনি বলেন, “বর্তমানে প্রতি চার দিন অন্তর জমি থেকে ফুল তুলি। প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কেজি গাঁদা ফুল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।” শুরুতে প্রতি কেজি ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও, বর্তমানে দাম কিছুটা কমে ২০ থেকে ২৫ টাকা হয়েছে। তবুও বিপুল উৎপাদনের কারণে ভালোই লাভ থাকছে তাঁর পকেটে। চাহিদাও ক্রমবর্ধমান, তাই আগামী দিনে চাষের জমি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
অর্থনৈতিক বিকাশে নতুন সম্ভাবনা
পঙ্কজ মণ্ডলের এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছে মালদহ জেলা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। সংগঠনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, “জেলায় গাঁদা ফুলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। উদ্যানপালন দফতরের সহযোগিতায় এই ধরনের চাষ আরও বাড়ানো গেলে তা জেলার অর্থনৈতিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে।”
অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা
পঙ্কজের এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও প্রথাগত চাষের পাশাপাশি বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে ফুল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কৃষি বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় মহলের মতে, মালদহের মাটির গুণাগুণ কাজে লাগিয়ে ফুল চাষে বৈচিত্র্য আনলে কৃষকদের আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা সম্ভব।