রেকর্ড ভোটে জয়ী হয়েও এলাকাছাড়া! নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র কেশপুরে ঢুকতে পারছেন না বিধায়ক শিউলি সাহা

বিধানসভা নির্বাচনে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হয়েও নিজের এলাকায় ঢুকতে পারছেন না বিধায়ক! এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন কেশপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী শিউলি সাহা। দলগতভাবে জয়ী হলেও কেশপুরের বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে কার্যত ‘বন্দি’ ও কর্মহীন করে রেখেছে বলে দাবি তাঁর।
কেশবপুরের বর্তমান পরিস্থিতি:
কেশপুর বরাবরই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকা। বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূলের জয়—সবক্ষেত্রেই এই কেন্দ্রটি বিশেষ চর্চায় থেকেছে। এবারের নির্বাচনে বিজেপি বিভিন্ন জায়গায় ভালো ফল করলেও, কেশপুরে ৫২ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন শিউলি সাহা। কিন্তু জয়ের স্বাদ মেটার আগেই এলাকায় তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। বিধায়কের অভিযোগ, তৃণমূলের অধিকাংশ পার্টি অফিসই এখন গেরুয়া শিবিরে পরিণত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির জায়গায় বসানো হয়েছে নরেন্দ্র মোদী ও শুভেন্দু অধিকারীর ছবি।
বিধায়কের অভিযোগ ও আক্ষেপ:
মেদিনীপুরে প্রশাসনিক বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শিউলি সাহা বলেন, “বহু মানুষ ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। অনেকের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে, জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকী, আমি যেখানে থাকি সেই বাড়িওয়ালাকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফ্লেক্স-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কেশপুরের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। কিন্তু যদি আমাকে এলাকাতেই থাকতে না দেওয়া হয়, তবে আমি সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেব কীভাবে? আমি বিধায়ক হিসেবে কাজ করার সুযোগ চেয়ে জেলাশাসক (DM) ও পুলিশ সুপারের (SP) কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।”
প্রশাসনের দ্বারস্থ বিধায়ক:
শিউলি সাহা জানিয়েছেন, তিনি শুধুমাত্র পুলিশ বা প্রশাসন নয়, বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন। তাঁর আক্ষেপ, রাজ্যের অন্য বিধায়করা যেভাবে কাজ করতে পারছেন, তিনি কেন সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন? এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে এনে কাজ করার পরিবেশ তৈরির আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধায়কের এই মন্তব্য কেশপুরের টালমাটাল পরিস্থিতিরই প্রতিচ্ছবি। একদিকে ৫২ হাজার ভোটের বিশাল জয়, অন্যদিকে এলাকাছাড়া হওয়ার আক্ষেপ—এই দুই বিপরীত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে শিউলি সাহার রাজনৈতিক লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।