টাকা ফেরত চাইলেই প্রাণনাশের হুমকি! বালুরঘাটে বড় বিপাকে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ। একটি সিনেমার জন্য অগ্রিম টাকা নিয়ে শ্যুটিংয়ে না আসা এবং টাকা ফেরত চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে বালুরঘাট থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক তরুণ দাস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহল।

অভিযোগের মূলে কী?
অভিযোগকারী তরুণ দাসের দাবি, ২০১৮ সালে একটি বাণিজ্যিক বাংলা সিনেমা তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। সেই ছবির মুখ্য চরিত্রের জন্য সোহম চক্রবর্তীকে চূড়ান্ত করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ধাপে ধাপে সোহমকে পারিশ্রমিক বাবদ মোট ১৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম প্রদান করা হয়। তরুণবাবুর অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর থেকেই অভিনেতা টালবাহানা শুরু করেন। বারবার শ্যুটিংয়ের দিন পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং ব্যস্ততার অছিলায় দীর্ঘ কয়েক বছর কাজ ঝুলিয়ে রাখা হয়।

প্রাণনাশের হুমকি!
প্রযোজকের অভিযোগ, আর্থিক সংকটের কারণে পরবর্তীতে তিনি সোহমের কাছে অগ্রিম টাকা ফেরত চাইলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তরুণ দাসের কথায়, “টাকা ফেরত চাইলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখান অভিনেতা। রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাকে মুখ খুলতে দেওয়া হয়নি এতদিন।” বৃহস্পতিবার রাতে নিরুপায় হয়েই বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

পাল্টা তোপ সোহমের:
সোহম চক্রবর্তী অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। উল্টে প্রযোজক তরুণ দাসের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ এনেছেন অভিনেতা। কয়েকদিন আগেই সোহম দাবি করেছিলেন, উল্টে তাঁকেই হুমকি দিচ্ছেন ওই প্রযোজক। সোহমের অভিযোগ, “আমাকে জয় শ্রী রাম স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং তীর-ধনুক নিয়ে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই প্রযোজকের সাথে বিজেপির বড় নেতাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, সেই ভয় দেখিয়েই আমাকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

তদন্তে পুলিশ:
প্রযোজক ও অভিনেতা—দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হুমকির অভিযোগ তোলায় বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তরুণ দাসের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

টলিউড তারকা বনাম প্রযোজকের এই আইনি লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার অপেক্ষায় অনুরাগী ও সাধারণ মানুষ।