‘সিদ্ধান্ত থেকে মাত্র ১ ঘণ্টা দূরে ছিলাম!’ ইরানকে গুঁড়িয়ে দিতে ফের চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, কাঁপছে বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে ফের নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘনীভূত হতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাব্য দিনক্ষণ নিয়ে এক বিস্ফোরক ইঙ্গিত দিতেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি বা সমঝোতা না হলে খুব দ্রুত বড়সড় সামরিক হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। তিনি এমনও দাবি করেন যে, মঙ্গলবারের একটি পরিকল্পিত হামলার সিদ্ধান্ত থেকে তিনি মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলেন, যদিও আপাতত তা স্থগিত রাখা হয়েছে।

‘আর মাত্র ২-৩ দিন সময়’, কেন হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের?
হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা নিয়ে ওয়াশিংটনের এই কড়া অবস্থান। ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, ট্রাম্প সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন:

“আমি আশা করি আমাদের সরাসরি যুদ্ধে যেতে হবে না, কিন্তু হয়তো তাদের (ইরান) ওপর আরেকটি বড় আঘাত হানতে হতে পারে।”

হামলার জন্য তিনি কতদিন অপেক্ষা করবেন— সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় দুই বা তিন দিন, হয়তো শুক্র, শনি বা রবি। কিংবা আগামী সপ্তাহের শুরুতে কিছু একটা ঘটতে পারে। তবে এটি হবে সীমিত সময়ের জন্য।”

আরব দেশগুলির অনুরোধেই কি রক্ষা পেল তেহরান?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোমবার দাবি করেছেন যে, তিনি মঙ্গলবারই ইরানের ওপর আরেকটি বড় হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছিলেন। কিন্তু সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) মতো প্রভাবশালী আরব বন্ধু রাষ্ট্রগুলির বিশেষ অনুরোধে তিনি শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে বাধ্য হন।

এর আগেও পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির কূটনৈতিক অনুরোধে ট্রাম্প নিজের সামরিক সিদ্ধান্ত সাময়িক পরিবর্তন করেছিলেন। তবে এবার ট্রাম্পের বার্তা পরিষ্কার— ইরানকে দ্রুত আমেরিকার শর্ত মেনে নতুন চুক্তি করতে হবে, অন্যথায় মার্কিন ফৌজ পুরোপুরি ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ রয়েছে।

ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা
এদিকে আমেরিকার এই চরম পদক্ষেপের মুখে হাত গুটিয়ে বসে নেই ইরানও। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, নতুন করে কোনো মার্কিন আগ্রাসন হলে তার “কঠোর ও রক্তক্ষয়ী সামরিক জবাব” দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি শান্ত করতে আমেরিকার কাছে একাধিক শর্ত রেখেছে ইরান, যার মধ্যে রয়েছে:

ইরানের ওপর থেকে সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা সরাতে হবে।

পূর্ববর্তী যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে আগুন!
যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের গণ্ডি পার করে গিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা না কাটে এবং সত্যি কোনো সামরিক সংঘাত শুরু হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ মন্দা বা বড় ধাক্কা লাগতে পারে। বিশ্ব রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— শেষ পর্যন্ত কি আলোচনার টেবিলে কোনো সমাধান সূত্র মিলবে, নাকি নতুন করে যুদ্ধের আগুনে জ্বলবে গোটা মধ্যপ্রাচ্য?