নবান্নে মিলল বড় সবুজসঙ্কেত, কিন্তু ডিএ নিয়ে কী বললেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা? ক্ষোভের মাঝেও কেন ভরসা রাখছেন সরকারি কর্মীরা?

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ হলো। ভোটের প্রচার পর্ব থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এবং বেতন কাঠামো নিয়ে নানামুখী প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই, সোমবার নবান্নে আয়োজিত এই বৈঠকের পর ডিএ নিয়ে নতুন সরকার কী পদক্ষেপ করতে চলেছে, সেদিকেই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে ছিলেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।

বৈঠক শেষে নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তগুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে বকেয়া মেটানো এবং বেতন কাঠামোর সংস্কারে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। রাজ্যে ‘সপ্তম বেতন কমিশন’ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা।

তবে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের বড় ঘোষণা এলেও, এই নির্দিষ্ট বৈঠকে বকেয়া ডিএ (DA) দেওয়া নিয়ে সরাসরি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়নি। মন্ত্রী জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে সরকার অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে চিন্তাভাবনা করছে এবং আগামী দিনে ধাপে ধাপে রূপরেখা স্পষ্ট করা হবে।

আশাহত হলেও ভরসা হারাচ্ছে না সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ মন্ত্রিসভার এই বৈঠকের পর বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে আজই কোনো বড়সড় ও চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে—এমনটাই জোরালো আশা ছিল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিদের। সরাসরি ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা আজ না আসায় আন্দোলনকারী ও সাধারণ কর্মচারীদের একাংশের মনে কিছুটা ক্ষোভ তৈরি হলেও, মঞ্চের প্রতিনিধিরা এখনই পুরোপুরি আশাহত হতে রাজি নন।

যৌথ মঞ্চের নেতৃত্ব জানিয়েছেন, ভোটের আগে এবং সরকার গঠনের সময় নতুন শাসকদল তাঁদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার ওপর তাঁরা এখনও পূর্ণ ভরসা রাখছেন। তাঁদের বিশ্বাস, রাজ্য সরকার কর্মচারীদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে খুব দ্রুতই দেওয়া কথা রাখবে এবং বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েই তাঁরা বকেয়া মহার্ঘ ভাতার চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।