“বাংলার অবস্থা কাশ্মীরের থেকেও খারাপ!” হাওড়ায় বুলডোজার চলতেই মমতার বিরুদ্ধে চরম বিস্ফোরক দিলীপ

হাওড়া স্টেশন চত্বরে রেলের জমিতে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে এবার রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল পড়ে গেল। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে তুলনা করে সোমবার এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমান বাংলার অবস্থা কাশ্মীরের থেকেও শোচনীয় হয়ে পড়েছে।
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর জমানায় বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্যে ঢোকার ছাড়পত্র দিয়েছিলেন। এর ফলে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। তবে রাজ্যে নতুন বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমরা বারবার বলছি যে বাংলার অবস্থা জম্মু-কাশ্মীরের থেকেও খারাপ। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে এখানকার সরকার ও সংস্কৃতি বদলে গেছে। আমরা কোনো কিছুই ভুলিনি। অনুপ্রবেশকারীদের এখানে এনে বসতি গড়তে দেওয়াটা বাংলার সংস্কৃতি নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সংস্কৃতি নষ্ট করেছিলেন, আর আমরা এখন সেটাকেই ঠিক করার কাজ করছি।”
হাওড়া স্টেশন নিয়ে সরব দিলীপ
মূলত হাওড়া রেল স্টেশনের সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের প্রসঙ্গ টেনেই সোমবার মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাওড়ার মতো একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন এখন চরম ভিড় আর নোংরায় ভরে গেছে। যার জেরে সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে মহিলা এবং শিশুদের বসার মতো ন্যূনতম জায়গাটুকুও অবশিষ্ট নেই।
এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষের স্পষ্ট বক্তব্য, “শুধু হাওড়া স্টেশন নয়, গোটা বাংলার প্রত্যেকটা রেল স্টেশনই এখন এক একটা বাজারে পরিণত হয়েছে। চারদিকে শুধু নোংরা আর আবর্জনা। মহিলা, শিশু বা প্রবীণ নাগরিক— কারোরই শান্তিতে বসার জায়গা নেই। রেল এবার তার নিজের সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করবে এবং সেটাকে সাধারণ মানুষের সেবার জন্য ব্যবহার করবে। আর এই কাজ সফল করতে রেলওয়ে পুলিশ বা রাজ্য পুলিশ, সবাই সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে।”
শনিবারের উচ্ছেদ অভিযান ও বুলডোজার হুঁশিয়ারি
প্রসঙ্গত, গত শনিবার সন্ধ্যায় কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে হাওড়া রেল স্টেশন চত্বরে বেআইনি দখল উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে একটি বড়সড় অভিযান চালানো হয়। স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বেআইনি নির্মাণগুলি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে বুলডোজার এবং ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোটা এলাকায় মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী।
এই ঘটনার পরই রাজ্যজুড়ে বেআইনি নির্মাণ ও সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। খড়গপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানান, “সারা দেশেই এবার বুলডোজার চলবে। যেখানেই বেআইনি নির্মাণ চোখে পড়বে, সেখানেই বুলডোজার নামানো হবে। বাংলায় যে নতুন সরকার এসেছে, তারা প্রথম দিন থেকেই এই কাজ শুরু করে দিয়েছে।” সেই সঙ্গেই দখলদারদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, “আমি আবেদন করছি, যারা এতদিন বেআইনি কাজ করছিলেন, তারা এবার আইনের মধ্যে এসে নিজেদের কাজ করুন। সরকার আপনাদের সবরকম সহযোগিতা করবে। তবে সরকারি জমিতে কোনো ধরনের দখলদারি আমরা আর বরদাস্ত করব না।”