পশুজবাই নির্দেশিকা ঘিরে তোলপাড় রাজ্য! মোড় ঘুরিয়ে দিতে শুভেন্দুর শরণাপন্ন অধীর, জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে

পবিত্র ইদ-উল-আজহা বা কুরবানির উৎসবের প্রাক্কালে পশুজবাই সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের একটি সাম্প্রতিক নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বাংলার রাজনীতিতে। রাজ্যের এই স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে এবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপ দাবি করলেন বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রবীণ রাজনীতিক অধীর রঞ্জন চৌধুরী। ভোটের আবহে এই দুই ভিন্ন মেরুর নেতার এমন রাজনৈতিক সমীকরণ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী সরাসরি বিজেপি নেতা তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজ্য সরকারের এই নতুন নির্দেশিকা বা গাইডলাইন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করতে পারে এবং এর ফলে উৎসবের মরশুমে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার একটি বড় আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী যেন দ্রুত বিষয়টি নিয়ে রাজ্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে কথা বলেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেন, সেই অনুরোধই জানিয়েছেন অধীর।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সাধারণত যে কোনো জনস্বার্থ বা প্রশাসনিক বিষয়ে বিরোধী দলগুলো সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু অধীর চৌধুরী নবান্নকে এড়িয়ে সরাসরি বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপ চাওয়ায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই ঘটনাকে বিরোধীদের একটি ‘রাজনৈতিক চাল’ হিসেবেই দেখছে। শাসক দলের দাবি, কুরবানির উৎসব যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সম্পন্ন হয়, তার জন্যই প্রশাসন এই গাইডলাইন জারি করেছে। এর মধ্যে রাজনীতির কোনো যোগ নেই। তবে ইদের মুখে এই পশুজবাই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে অধীর-শুভেন্দুর এই নতুন রসায়ন আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।