খুন নাকি অন্য কিছু? কাটোয়ায় তরতাজা কলেজ পড়ুয়াকে কোপানোর নেপথ্যে কোন গভীর রহস্য? তোলপাড় এলাকা

সপ্তাহের শেষেই পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ড। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার মাঝেই এক তরুণ কলেজ ছাত্রকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল। এই বর্বরোচিত ঘটনার জেরে গোটা কাটোয়া এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত ছাত্রের নাম প্রকাশ না করলেও পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বয়স মাত্র ২১ বছর। এই খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যেই নিহতের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধুকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে কাটোয়া থানার পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এদিন রাতে ওই ২১ বছরের কলেজ ছাত্র তাঁর বন্ধুদের সঙ্গেই ছিলেন। কিন্তু কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আচমকাই বন্ধুদের মধ্যে তীব্র বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ, সেই ঝামেলার মাঝেই ধারালো অস্ত্র বের করে ওই তরুণকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে তাঁরই বন্ধুরা। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ছাত্র মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আততায়ীরা ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তরতাজা এক কলেজ পড়ুয়ার এমন নৃশংস পরিণতিতে নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তবে ঠিক কী কারণে এই খুন, তা নিয়ে এখনও সম্পূর্ণ ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এটি কি স্রেফ বন্ধুদের মধ্যে তাৎক্ষণিক বচসার জেরে নাকি এর পেছনে কোনো পুরনো শত্রুতা, ত্রিকোণ প্রেম অথবা অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনার তদন্তে নেমে কাটোয়া থানার পুলিশ কালক্ষেপ না করে মৃতের দুই বন্ধুকে আটক করেছে। লালবাজার ও জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতদের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মিলেছে। নিহতের দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে পুলিশ ঘটনার প্রকৃত মোটিভ বা কারণ উদঘাটন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।