ফলতার মাটি থেকে নবান্নকে চরম চ্যালেঞ্জ বিজেপির! ‘আর কোনোদিন ক্ষমতায় ফিরবে না পিসি-ভাইপো’, কেন এমন দাবি শমীকের?

২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যখন এখনও টগবগ করে ফুটছে, ঠিক তখনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার মাটি থেকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে এক নজিরবিহীন ও চরম রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি দিলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। জোড়াফুল শিবিরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একপ্রকার হাড়হিম করা ভবিষ্যদ্বাণী করে তিনি সাফ দাবি করেছেন, আগামী দিনে এ রাজ্যে ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নামের কোনো রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বই আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতার যে বিরাট রদবদল শুরু হয়েছে, তাতে তৃণমূলের আর ক্ষমতায় ফেরার কোনো দূরতম সম্ভাবনাও নেই বলে মনে করছেন এই হেভিওয়েট বিজেপি নেতা।
রবিবার বিকেলে ফলতায় আয়োজিত বিজেপির এক দলীয় জনসভায় বক্তব্য রাখছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই এলাকায় দাঁড়িয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই শাসক দলের দুর্নীতি ও সাংগঠনিক ক্ষয়িষ্ণুতা নিয়ে একের পর এক চাঁচাছোলা আক্রমণ শানান তিনি।
উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে শমীক বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস এখন একটি ক্ষয়িষ্ণু শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতার অহংকারে তারা বাংলার মানুষের ওপর যে অত্যাচার চালিয়েছে, তার হিসেব চুকানোর সময় এবার এসে গেছে।” এরপরই রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় দাবি করে তিনি বলেন, “লিখে রাখুন, এ রাজ্যে এটাই ওদের শেষ টার্ম। আগামী দিনে যখন আবার নির্বাচন হবে, তখন বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে তৃণমূল নামের দলটাই পুরোপুরি মুছে যাবে।”
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যের কোণায় কোণায় যেভাবে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিচ্ছেন, তাতে তৃণমূলের অন্দরে ইতিমধ্যেই চরম ভাঙন ও তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশ এবং প্রশাসনের একাংশকে অপব্যবহার করে জোড়াফুল শিবির আর কতদিন নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারে, ফলতার সভা থেকে সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। শমীকের স্পষ্ট বার্তা—জনগণের ক্ষোভের যে সুনামি তৈরি হয়েছে, তাতে তৃণমূলের তাসের ঘর ভেঙে পড়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
ফলতার মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকায় দাঁড়িয়ে শমীক ভট্টাচার্যের এই ঝাঁঝালো রাজনৈতিক আক্রমণ স্বভাবতই বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে ছাড়েনি শাসক দলও। তৃণমূল শিবিরের দাবি, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিজেপির পায়ের তলার মাটি সরে গেছে, তাই সংবাদমাধ্যমের লাইমলাইটে টিকে থাকতেই শমীক ভট্টাচার্য এমন ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক ভবিষ্যদ্বাণী করছেন। তবে রবিবারের এই সভার পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক অলিন্দে যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ল, তা বলাই বাহুল্য।