সোনার ঋণ নিয়ে গ্রাহকদের ঠকাচ্ছিল নামী সংস্থা! হাতেনাতে ধরে বিরাট শাস্তি দিল RBI, আপনার টাকাও আটকে নেই তো?

গোল্ড লোন বা সোনার গয়না বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহক সুরক্ষায় ফের একবার কঠোর অবস্থান নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। দেশের অন্যতম শীর্ষ নন-ব্যাঙ্কিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘IIFL ফিন্যান্স লিমিটেড’ (IIFL Finance Ltd)-কে ৩.১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। অভিযোগ, গ্রাহকদের বন্ধক রাখা সোনা নিলাম করার পর, বকেয়া ঋণের অতিরিক্ত যে উদ্বৃত্ত টাকা নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহককে ফেরত দেওয়ার কথা, তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এই সংস্থাটি।
নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানিগুলির (NBFC) জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্কের যে নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে, তা লঙ্ঘন করার অপরাধেই ১৯৩৪ সালের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া আইনের অধীনে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কোন নিয়মের কোপে পড়ল IIFL ফিন্যান্স?
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশিকাটি ১১ মে, ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়েছে। আরবিআই (RBI)-এর পরিভাষায়, ‘মাস্টার ডিরেকশন – রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানি – স্কেল বেসড রেগুলেশন) ডিরেকশনস, ২০২৩’—এই কড়া নিয়মের আওতায় এনেই ব্যবস্থাটি নেওয়া হয়েছে। ৩১ মার্চ, ২০২৫ পর্যন্ত সংস্থার আর্থিক খতিয়ান ও কার্যপদ্ধতি খতিয়ে দেখার পরেই এই জরিমানার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
সোনার লোন ও নিলামের আসল নিয়মটি কী?
সাধারণত, আর্থিক সংকটে পড়ে মানুষ যখন নিজের সোনার গয়না বন্ধক রেখে কোনো ব্যাঙ্কিং বা অ-ব্যাঙ্কিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেন, তাকেই গোল্ড লোন বলা হয়। কোনো কারণে ঋণগ্রহীতা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুদে-আসলে সেই টাকা শোধ করতে না পারলে, ঋণপ্রদানকারী সংস্থা ওই সোনা বাজারে নিলাম করে নিজেদের বকেয়া টাকা তুলে নেওয়ার অধিকার রাখে।
তবে এখানেই রয়েছে আরবিআই-এর প্রধান রক্ষাকবচ। নিয়ম বলছে, সোনা নিলাম করার পর যদি বকেয়া ঋণের পরিমাণের চেয়ে বেশি টাকা সংগৃহীত হয়, তবে সেই বাড়তি বা উদ্বৃত্ত টাকা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ফেরত দিতে হবে। IIFL ফিন্যান্স নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের ক্ষেত্রে এই উদ্বৃত্ত টাকা ফেরত দেয়নি বলেই তদন্তে জানতে পেরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
আগে দেওয়া হয়েছিল ‘শোকজ’ নোটিশ
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক স্পষ্ট করেছে যে, এই আর্থিক জরিমানা একতরফাভাবে করা হয়নি। নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে আসার পর আইআইএফএল (IIFL)-কে প্রথমে একটি কারণ দর্শানোর (Show-cause) নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। এরপর সংস্থার লিখিত উত্তর এবং ব্যক্তিগত শুনানির সময় তাদের কর্তাদের দেওয়া মৌখিক যুক্তি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনা করার পরেই এই ৩.১০ লক্ষ টাকার জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আশ্বস্ত করেছে যে, এই পদক্ষেপটি শুধুমাত্র ‘নিয়ন্ত্রক সম্মতি সংক্রান্ত ঘাটতি’ বা নিয়মের অবহেলার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে ওই সংস্থার হওয়া কোনো বিদ্যমান চুক্তির বৈধতা নষ্ট হবে না। তবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, এই জরিমানার অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে আইআইএফএল-এর বিরুদ্ধে অন্য কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।