৫ বারের টানাপোড়েন শেষ, পুর-নিয়োগ দুর্নীতিতে ইডির মুখোমুখি রথীন ঘোষ! অয়ন শীলের ডায়েরির রহস্য কি ফাঁস হলো?

পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর মুখোমুখি হলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বিধায়ক রথীন ঘোষ। ইডির পরপর পাঁচবারের সমন এড়ানোর পর, শুক্রবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন তিনি। সেখানে প্রায় ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ম্যারাথন জেরা। ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ইডি দফতর থেকে বেরোনোর সময় মুখ খোলেন প্রাক্তন মন্ত্রী।

শুক্রবার সকাল ঠিক ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইডি দফতরে পৌঁছান রথীন ঘোষ। সিজিও কমপ্লেক্সে প্রবেশের মুখে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি কিছুটা নির্লিপ্তভাবেই বলেন, ”আমাকে কেন ডেকেছে জানি না। ভিতরে গেলে জানতে পারব।” তবে ইডি সূত্রে খবর, পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ধৃত প্রোমোটার অয়ন শীলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর যে সমস্ত তথ্য ও নথি উঠে এসেছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই রথীন ঘোষের বয়ান লিপিবদ্ধ করার জন্য এই তলব করা হয়েছিল। রথীন ঘোষ যখন সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন, সেই আমলের নিয়োগ প্রক্রিয়াই এখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির আতশকাচের তলায়।

তদন্তকারী আধিকারিকদের ম্যারাথন জেরার মুখোমুখি হয়ে প্রায় রাত ৮টা নাগাদ ইডি দফতর থেকে বাইরে আসেন বিধায়ক। সূত্রের খবর, দীর্ঘ ১০ ঘণ্টায় তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং একাধিক নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়েছে। সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরোনোর সময় রথীন ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, “তদন্তকারীরা যা যা কাগজপত্র চেয়েছিলেন, আমি সমস্ত নথি জমা দিয়েছি।” আগামী দিনে তাঁকে আবার ডাকা হয়েছে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি সংক্ষেপে বলেন, “পরবর্তীতে আবার দরকার হলে জানানো হবে বলা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, ভোট পর্বের ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে এর আগে পরপর পাঁচবার ইডির হাজিরা এড়িয়েছিলেন এই হেভিওয়েট নেতা। তবে শুক্রবারের এই দীর্ঘ জেরা এবং রথীন ঘোষের জমা দেওয়া নথিপত্র পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তকে কোন নতুন দিশা দেখায়, এখন সেটাই দেখার।