গয়নাও থাকবে সুরক্ষিত, আবার ঘরে বসেই হবে লাখ লাখ টাকা আয়! স্টেট ব্যাংকের এই স্কিমে কোটিপতি হওয়ার সুযোগ!

ভারতীয় পরিবারগুলিতে সোনা বা সোনার গয়না কেবল একটি অলঙ্কার নয়, এটি বিপদের বড় ভরসা। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই এই মূল্যবান সোনা ঘরের লকারে বা ব্যাংকের সেফটি ডিপোজিটে বছরের পর বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। উল্টে লকার ভাড়ার জন্য প্রতি বছর পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই লকারে বন্দি সোনা থেকেই প্রতি মাসে বা প্রতি বছর আপনি মোটা টাকা নিশ্চিত আয় করতে পারেন? মধ্যবিত্তকে এই দারুণ সুযোগ করে দিতেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলি নিয়ে এসেছে ‘গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম’ (Gold Monetization Scheme) বা জিএমএস।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, আমরা যেভাবে ব্যাংকে টাকা ফিক্সড ডিপোজিট (FD) বা রেকারিং করে সুদ পাই, ঠিক একইভাবে এই স্কিমে নিজের সোনা জমা রেখে সুদ পাওয়া যায়। এর ফলে আপনার সোনা যেমন চুরির ভয় ছাড়া শতভাগ সুরক্ষিত থাকবে, তেমনই তার ওপর মিলবে আকর্ষণীয় রিটার্ন।
কীভাবে কাজ করে এই স্কিম? এবং কত লাভ? স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI) সহ দেশের প্রায় সমস্ত বড় ব্যাংকেই এই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। আপনি ন্যূনতম ১০ গ্রাম সোনা (বার, কয়েন বা গয়না) দিয়ে এই বিনিয়োগ শুরু করতে পারেন। সোনা জমা রাখার মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে সুদের হার ঠিক হয়। সাধারণত ৩টি মেয়াদে এই স্কিম চলে:
-
স্বল্প মেয়াদি (১ থেকে ৩ বছর): এখানে ব্যাংকভেদে প্রায় ০.৫০% থেকে ২.২৫% পর্যন্ত সুদ পাওয়া যায়।
-
মধ্য মেয়াদি (৫ থেকে ৭ বছর): এই মেয়াদে সুদের হার বার্ষিক প্রায় ২.২৫%।
-
দীর্ঘ মেয়াদি (১১ থেকে ১৫ বছর): দীর্ঘ মেয়াদের জন্য সোনা রাখলে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ বার্ষিক প্রায় ২.৫০% হারে সুদ মেলে।
সবচেয়ে বড় সুবিধা কোথায়? এই স্কিমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর করছাড় ও ম্যাচিউরিটি পলিসি। এই স্কিম থেকে আপনি যে সুদ পাবেন, তার ওপর কোনো আয়কর বা ‘ক্যাপিটাল গেইন্স ট্যাক্স’ দিতে হয় না। অর্থাৎ উপার্জিত পুরো টাকাটাই আপনার পকেটে আসবে। আরও একটি বড় সুবিধা হলো, স্কিমের মেয়াদ শেষে আপনি চাইলে সুদে-আসলে পুরো সোনাটি ফেরত নিতে পারেন, অথবা সেই সময়ের বাজারদর অনুযায়ী সমপরিমাণ টাকাও তুলে নিতে পারেন।
তাই লকারের অন্ধকারে সোনা ফেলে রেখে অলস ফেলে না রেখে, সরকারের এই দুর্দান্ত স্কিমের সুবিধা নিয়ে আজই নিজের সোনাকে উপার্জনের হাতিয়ার বানিয়ে ফেলুন। বিস্তারিত জানতে আজই আপনার নিকটবর্তী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন।