দিনে আধপেটা খেয়েও তাক লাগানো সাফল্য! মেধা তালিকায় মালদার সাগর, অভাবের ঘরে ফুটল চাঁদের আলো

নুন আনতে পান্তা ফুরনোর সংসার। দিনমজুর বাবা-মা দুজনেই পেটের তাগিদে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। ভাঙা চালের ঘর, বৃষ্টি হলেই জল পড়ে মেঝেতে। পড়ার জন্য ভালো একটা টেবিল-চেয়ার বা আলোর ঠিকঠাক ব্যবস্থাও ছিল না। কিন্তু সমস্ত অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে, চরম অভাবের সাথে লড়াই করে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে নবম স্থান অধিকার করে তাক লাগিয়ে দিল মালদার সাগর শেখ। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যে শুধু তাঁর পরিবারই নয়, আজ গর্বিত গোটা রাজ্য।

মেধা তালিকায় সাগরের নাম আসতেই মালদার সেই প্রত্যন্ত গ্রামে আজ চাঁদের আলো। রাজ্য জুড়ে যখন ফল প্রকাশের পর আনন্দের জোয়ার, তখন সাগরের বাড়িতে খুশির পাশাপাশি ঝরছে আনন্দের অশ্রু। জানা গেছে, সাগরের বাবা-মা দুজনেই পরিবারের মুখে অন্ন জোগাতে বছরের অধিকাংশ সময় ভিন রাজ্যে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন। ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগাতে গিয়ে বহু রাত তাঁদের আধপেটা খেয়ে কাটাতে হয়েছে।

সাগরের এই লড়াইটা মোটেও সহজ ছিল না। প্রাইভেট টিউশন তো দূরের কথা, পরীক্ষার ঠিকঠাক বইপত্র কেনার সামর্থ্যও ছিল না এই পরিবারের। ভাঙা একটা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন পড়ার নোট সংগ্রহ করত সাগর। তাও আবার রিচার্জের টাকা সব সময় থাকত না। কিন্তু মনের জোর আর অদম্য জেদ থাকলে যে কোনও বাধাই বাধা নয়, তা প্রমাণ করে দিল এই লড়াকু ছাত্র। মেধা তালিকায় নবম স্থান পাওয়ার পর সাগর জানায়, “বাবা-মায়ের কষ্ট আমি চোখের সামনে দেখেছি। আমি জানতাম, পড়াশোনাই আমাদের এই কষ্টের দিন ঘোচাতে পারে। শিক্ষকেরা আমায় খুব সাহায্য করেছেন।”

ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ডাব্লুবিসিএস (WBCS) অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখে সাগর, যাতে সমাজ ও দেশের সেবা করার পাশাপাশি নিজের পরিবারের মুখে স্থায়ী হাসি ফোটাতে পারে। তবে আগামী দিনে এই পড়াশোনার বিপুল খরচ কীভাবে চলবে, তা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পরিযায়ী শ্রমিক দম্পতির কপালে। সাগরের এই মেধার জয়জয়কার এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল, আর সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা কুর্নিশ জানাচ্ছেন এই হার-না-মানা অদম্য লড়াইকে।