জেলের খাঁচায় বন্দি ফোন! ভেতরে কীভাবে চলছে ‘নেটওয়ার্ক’? সিআইডি-কে মাঠে নামালেন মুখ্যমন্ত্রী

সংশোধনাগারের চার দেওয়ালের কঠোর নিরাপত্তা গলে কীভাবে বন্দিদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে মোবাইল ফোন? সুরক্ষিত কুঠুরির ভেতরে বসে কীভাবে রমরমিয়ে চলছে মোবাইল সাম্রাজ্য? এই মারাত্মক নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলের ভেতরের এই মোবাইল-যোগের উৎস এবং নেপথ্যে থাকা চক্রটিকে খুঁজে বের করতে সরাসরি সিআইডি (CID) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগার থেকে বন্দিদের মোবাইল ব্যবহারের অভিযোগ উঠছিল। মাঝে মাঝেই তল্লাশি অভিযানে উদ্ধার হচ্ছিল একের পর এক স্মার্টফোন ও সিমকার্ড। জেলের মতো অতি-সুরক্ষিত এলাকায় জ্যামার থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বন্দিরা বাইরের দুনিয়ার সাথে যোগাযোগ রাখছে, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেই উঠছিল বড়সড় প্রশ্ন। বিষয়টি যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ, তা অনুধাবন করেই এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন।

সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কারা বিভাগের নিজস্ব নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে এই বেআইনি কাজ দিনের পর দিন চলছে, তার শিকড়ে পৌঁছাতে চায় রাজ্য সরকার। কোনো প্রভাবশালী চক্র বা সংশোধনাগারের ভেতরের কোনো কর্মী এই চক্রের সাথে জড়িত কি না, সিআইডি এবার তা খতিয়ে দেখবে।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপের পর কারা প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ কোনো বিভাগীয় তদন্তে আটকে না রেখে সিআইডি-র মতো শীর্ষ সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ায় স্পষ্ট যে, এই অনিয়মের সাথে জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। আগামী দিনে সংশোধনাগারগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে এবং এই মোবাইল-রাজ রুখতে সিআইডি-র রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।